বাঙালির শিল্প ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের অবদান অপরিসীম। এই দুই মহাপুরুষের সৃষ্টিশীলতা আমাদের জাতীয় চেতনা ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে রয়েছে। তাদের জীবনাদর্শ ও শিল্পকর্ম নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে একটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি সেখানে দুই দিনব্যাপী একটি সংগীত কর্মশালার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে।
জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ওয়াহিদুল হক সঙ্গীত প্রব্রজ্যা’। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী গত ১১ সেপ্টেম্বর নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এই নান্দনিক আয়োজনের উদ্বোধন করা হয়। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে কর্মশালার শুভ সূচনা করেন জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের সভাপতি ও বিশিষ্ট গবেষক ড. মফিদুল হক। উদ্বোধনী দিনেই সকাল থেকে বিভিন্ন বয়সের শতাধিক নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই আয়োজনে অংশ নেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মফিদুল হক উল্লেখ করেন যে, রবীন্দ্র-নজরুল চর্চার মাধ্যমেই কেবল একটি মানবিক ও সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তাদের গানে ও লেখনিতে যে স্বদেশভাবনা প্রকাশ পেয়েছে, তা বর্তমান সমাজ বিনির্মাণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত পাথেয়। এই দুই কবির মানবিকতার পথ অনুসরণ করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন নির্বাহী সভাপতি বুলবুল ইসলাম, চট্টগ্রাম শাখার সহসভাপতি ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম ও রীতা দত্ত। এছাড়া কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলী ও নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দও উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত থেকে পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।
উদ্বোধনী পর্ব শেষ হওয়ার পরপরই থিয়েটার ইনস্টিটিউটের নির্ধারিত দুটি মিলনায়তনে মূল প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। কর্মশালাটিকে সাধারণ ও কিশোর—এই দুটি আলাদা বিভাগে ভাগ করা হয়েছে। খ্যাতনামা প্রশিক্ষক বুলবুল ইসলাম ও মহুয়া মঞ্জরী সুনন্দা এই কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের রবীন্দ্র ও নজরুল সংগীতের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ প্রদান করছেন।