চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলাকে একটি আকর্ষণীয় পর্যটনবান্ধব অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে এলাকার পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। সম্প্রতি তিনি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত একটি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল এলাকার আটকে থাকা পানি নিষ্কাশনের পথ সচল করা এবং স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরি করা। রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মুরাদনগর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত কুলকুরমাই খালে এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়।
নির্ধারিত দিনে সকালের দিকে সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী নিজে কোদাল হাতে নিয়ে খালের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের কাজে নেমে পড়েন। তিনি বিডি ক্লিনের বিভিন্ন স্তরের স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খালের ভেতরে জমে থাকা বিভিন্ন পলিথিন, প্লাস্টিক বর্জ্য ও কচুরিপানা অপসারণ করেন। তার এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবীদের দারুণভাবে উৎসাহিত করে। এ সময় তিনি ডেঙ্গু রোগের বিস্তার রোধ এবং পরিবেশ দূষণ কমাতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেন।
উল্লেখ্য, কুলকুরমাই খালটি রোয়াজারহাট বাজার ও কুলকুরমাই গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গুমাই বিল এবং ইছামতী নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এই খালটি স্থানীয় কৃষিকাজ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। স্থানীয় কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই খালের পানির ওপর নির্ভর করে কুলকুরমাই ও মুরাদনগরসহ আশপাশের প্রায় তিন শ একর জমিতে নিয়মিত বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করা হয়। দীর্ঘ দিন ধরে ময়লা জমে পানিপ্রবাহ বন্ধ থাকায় কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল।
স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ বাসিন্দারা সংসদ সদস্যের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও তারা স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কেবল একদিনের বা সাময়িক পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে এই খালকে স্থায়ীভাবে রক্ষা করা সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে কেউ যেন আবার খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলতে না পারে, সে জন্য কঠোর নজরদারি এবং কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে রাঙ্গুনিয়ার প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও বেশি দায়িত্বশীল ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।