রাজধানীর গুলশানে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদান প্রদানকালে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা দেওয়া গ্যাস সংকট সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সাগরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি বহনকারী বিদেশি জাহাজে আগুনের কারণে পাইপলাইনে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কথা জানান তিনি। তবে সরবরাহ ইতিমধ্যে কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে এবং আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন সরকারপ্রধান।
জ্বালানি খাতে এক শ্রেণির অসাধু চক্রের অবৈধ সংযোগ নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাইপলাইন থেকে জোরপূর্বক অবৈধভাবে গ্যাস ও তেল চুরির ফলে সাধারণ মানুষ মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সরকার একা এই দুর্নীতি রোধ করতে পারবে না উল্লেখ করে তিনি বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির অপব্যবহার ও অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে দেশের জনগণকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া বিগত স্বৈরাচারী আমলে বাপেক্সকে অকার্যকর করে জ্বালানি খাতকে পুরোপুরি বিদেশনির্ভর করে তোলা হয়েছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন। বর্তমান সরকার দেশীয় অনুসন্ধান বাড়াতে ১৩০টি নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে এবং বাপেক্সকে পুনরায় সক্রিয় করার কাজ চলছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বলে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সুদীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের কারণে দেশের অর্থনীতি ও প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রকাশ করা শ্বেতপত্রের তথ্য উল্লেখ করে তিনি জানান, অতীতে প্রতিবছর দেশ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করা এবং তৃণমূলের সাধারণ মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা।
দেশের নারী সমাজের ক্ষমতায়ন ও শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার মেয়েদের শিক্ষা অনার্স পর্যন্ত অবৈতনিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতিমধ্যে ঢাকা-১৭ আসনে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ৪১ লাখ নারীর হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড প্রদান এবং তাঁদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করার কথা তিনি তুলে ধরেন। ধর্ম বা বর্ণের ভিত্তিতে সরকারের কাছে কোনো ভেদাভেদ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সরকার ক্রমান্বয়ে কাজ করে যাচ্ছে।