জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সরাসরি করপোরেট জগতের সঙ্গে যুক্ত করতে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি বড় চাকরি মেলা ও ক্যারিয়ার সামিটের আয়োজন করা হয়। জাকসুর উদ্যোগে আয়োজিত এই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় পঁচিশটিরও বেশি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত এই মেলায় বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানে প্রায় সাত শতাধিক তরুণ প্রার্থীর কর্মসংস্থানের সুযোগ উন্মুক্ত করা হয়। সকালের দিকে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং জাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ব্র্যাক ক্যারিয়ার হাব এবং অন্যান্য কয়েকটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠান এই আয়োজনে সহযোগিতা প্রদান করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান এই মেলার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন যে, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক পর্যায়েই করপোরেট সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে এবং নিজেদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে। একই ছাদের নিচে এতগুলো প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের একটি দারুণ সুযোগ তৈরি করেছে। জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম জানান, তাদের মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসেও শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণে বিভিন্নমুখী কাজ চালিয়ে যাওয়ার যে প্রতিশ্রুতি ছিল, এই চাকরি মেলা তারই একটি সফল প্রতিফলন। এছাড়া সহ-সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আল হাসান উল্লেখ করেন যে, প্রথম বর্ষ থেকে শুরু করে মাস্টার্স ও সদ্য পাস করা শিক্ষার্থীরা যাতে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে নিজেদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতে পারে, সে লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়েছিল।
মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও তরুণ প্রজন্মের মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে এমন উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। গোল্ড পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের একজন প্রতিনিধি জানান, এখান থেকে নতুন চাকরিপ্রার্থীদের সিভি পর্যালোচনা করে তাদের সঠিক দক্ষতার ভিত্তিতে উপযুক্ত পদে যুক্ত করার চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরাও এই আয়োজনে অংশ নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। পরিসংখ্যান বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন যে, ক্যাম্পাসে এ ধরনের বড় আয়োজন খুব একটা দেখা যায় না, তাই নিয়মিত এমন মেলা অনুষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীরা பெரிதும் উপকৃত হবে। ফার্মেসি বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মন্তব্য করেন যে, পড়াশোনা শেষ করার আগেই করপোরেট খাতের চাহিদা ও যোগ্যতার মানদণ্ড সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার ক্ষেত্রে এই মেলা শিক্ষার্থীদের অনেক এগিয়ে রাখবে।
দিনের মূল কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘রোড টু করপোরেট ক্যারিয়ার সেশন’ নামক একটি বিশেষ অধিবেশনের আয়োজন করা হয়। সেখানে করপোরেট খাতের অভিজ্ঞ ও দক্ষ বক্তারা শিক্ষার্থীদের পেশাগত উন্নয়ন, সঠিক জীবনবৃত্তান্ত প্রস্তুত করার কৌশল এবং সাক্ষাৎকারে সাফল্যের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে খাবার, কফি এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রমের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল। বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এই আয়োজনের গণমাধ্যম সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিল, যা পুরো অনুষ্ঠানটিকে সফল করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।