কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় পদ্মা নদীতে একটি মর্মান্তিক নৌ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থেকে আসা একটি বড় ব্যবসায়িক ভ্রমণ দলের নৌযান ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারের সঙ্গে ধাক্কা খায়। আনন্দ ভ্রমণের উদ্দেশ্যে আসা ওই নৌকায় মাঝি ও অন্যান্য কর্মীসহ প্রায় ১২৩ জনের অধিক যাত্রী অবস্থান করছিলেন। মাজার জিয়ারত শেষে ফেরার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নৌযানটি দুর্ঘটনার শিকার হয় এবং এতে তিন জন যাত্রী উত্তাল নদীতে পড়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, ঝিনাইদহের শৈলকুপার কাতলাগাড়ি ঘাট থেকে রওনা হয়ে পর্যটকরা ভেড়ামারার সোলাইমান শাহ মাজারে বেড়াতে আসেন। মাজার জিয়ারত শেষে রাতে নৌকায় করে গন্তব্যে ফেরার সময় হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কাছাকাছি পৌঁছালে নদীর প্রবল স্রোতের মুখোমুখি হয় নৌযানটি। স্রোতের তোড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নৌকাটির পেছন অংশ ব্রিজের চার নম্বর পিলারের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এই আকস্মিক সংঘর্ষের কারণে রাকিবুজ্জামান রকি, লিটন ও ওহাব নামের তিন জন যাত্রী মুহূর্তেই নদীতে তলিয়ে যান।
দুর্ঘটনার পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার তৎপরতা শুরু হলে লিটন ও ওহাবকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে শৈলকুপা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব রাকিবুজ্জামান রকি রাত পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ রকির এক বন্ধু জানান, রকি সাঁতার জানলেও প্রবল স্রোতের কারণে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তার বন্ধুরা এবং সহযাত্রীরা তাকে ফিরে পাওয়ার জন্য অত্যন্ত উদ্বিগ্ন অবস্থায় নদীর পাড়ে অপেক্ষা করছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করছেন। রাতে অন্ধকারের কারণে এবং নদীতে প্রচণ্ড স্রোত থাকায় উদ্ধার অভিযান চালাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। প্রয়োজন হলে বিশেষ ডুবুরি দল এনে তল্লাশি অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।