বরিশালের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি পৃথক সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে। সম্প্রতি নগরীর প্যারারা রোডের একটি কার্যালয় থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং পরে ময়নাতদন্তের জন্য তা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। আকস্মিক এই ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলক চ্যাটার্জী বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত কার্যনির্বাহী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
উদ্ধার করা সুইসাইড নোটগুলোর মধ্যে একটিতে স্ত্রী প্রিয়াংকা ও মেয়ে প্রকৃতির উদ্দেশ্যে আবেগঘন বার্তা লিখে গেছেন এই গণমাধ্যমকর্মী। সেখানে তিনি পরিবারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে উল্লেখ করেছেন যে, এই পৃথিবীতে কাউকেই আটকে রাখা যায় না এবং কারও জন্য কোনো কিছু থেমে থাকে না। একই সঙ্গে তিনি মেয়ে প্রকৃতিকে নিয়মিত পড়াশোনা ও গান চর্চা চালিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন। এছাড়া নিজের অনুপস্থিতিতে স্ত্রী ও সন্তানের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি ছোট ভাই দীপকের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন।
প্রশাসনের উদ্দেশ্যে লেখা আরেকটি নোটে এই সাংবাদিক স্পষ্ট করে জানিয়ে গেছেন যে, তাঁর এই চরম সিদ্ধান্তের জন্য বিন্দুমাত্র কেউ দায়ী নয়। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতা ও অসহনীয় শারীরিক যন্ত্রণা বয়ে বেড়ানোর কারণে তিনি এমন পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে নোটে উল্লেখ করেন। রোগমুক্তির জন্য তিনি দেশ ও দেশের বাইরে নানা জায়গায় চিকিৎসা করানোর কথাও জানান। পাশাপাশি, তাঁর মৃত্যুর পর যেন প্রশাসন কোনো ধরনের আইনি জটিলতা বা হয়রানি না করে এবং দ্রুত মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে, সেই অনুরোধও তিনি রেখে গেছেন।
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুইসাইড নোটগুলো জব্দ করেছে এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে নিবিড় তদন্ত চলছে। এছাড়া বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন এবং দীর্ঘ দেড় যুগের সহকর্মী সুমন চৌধুরীর উদ্দেশ্যে লেখা নোটে তাদের সঙ্গে কাটানো স্মৃতিচারণ ও ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়েছে। ছোট ভাই দীপক ও ভাবি ইতির উদ্দেশ্যে লেখা অন্য নোটে পারিবারিক বিভিন্ন দায়িত্ব ও আর্থিক হিসাব-নিকাশ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়ে গেছেন তিনি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত শেষে এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।