মহান আল্লাহর প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর উম্মতের মুক্তির জন্য সারারাত কেঁদেছেন এবং গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বর্তমান যুগের মুসলিম সমাজের দিকে তাকালে তাঁর সেই চিন্তার গভীরতা স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করা যায়। মানুষ আজ সঠিক পথ থেকে অনেকটাই দূরে সরে গেছে। তাই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা—তিনি যেন মানুষের গাফেলতি ক্ষমা করেন, অন্তরে হেদায়েত দান করেন এবং সুন্নাহর পথে চলার তাওফিক দেন। কিয়ামতের দিন যেন উম্মতে মুহাম্মদী হিসেবে প্রিয় নবীর শাফায়াত নসিব হয়।
ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো আল্লাহর তকলদির ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে ধৈর্য ধারণ করা। অনেক সময় মানুষ কোনো চাওয়া বা দোয়ার তাৎক্ষণিক ফলাফল না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ে। কিন্তু এটি ভুলে গেলে চলবে না যে, আল্লাহ বান্দার প্রতিটি ডাক শোনেন এবং তাদের প্রয়োজন সম্পর্কে সম্যক অবগত।
দোয়ার উত্তর মিলতে দেরি হওয়া মানেই তা প্রত্যাখ্যান নয়। হয়তো আল্লাহ তাআলা কোনো কল্যাণকর সময়ের জন্য অপেক্ষা করছেন কিংবা ক্ষতিকর কিছু থেকে বান্দাকে রক্ষা করছেন। তাই কখনোই নিরাশ হওয়া উচিত নয়। দোয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং আল্লাহর ওপর অবিচল ভরসা রাখা জরুরি, কারণ তাঁর পরিকল্পনা মানুষের ধারণার চেয়েও বহুগুণ শ্রেয়।
কোনো প্রার্থনাই কখনো নিষ্ফল হয় না এবং ধৈর্যের প্রতিদান দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতেই পাওয়া যায়। তাই সমস্ত প্রতিকূলতা ও বিলম্বের মাঝেও আল্লাহর রহমতের ওপর আস্থা রেখে সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করা উচিত। আমিন।