ইমাম হাছাইন পিন্টু, নাটোর
তীব্র গরম আর ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের জেরে জনজীবন যখন ওষ্ঠাগত, তখন আধুনিক প্রযুক্তির যুগে প্রায় হারিয়ে যাওয়া তালপাতার হাতপাখাই হয়ে উঠেছে স্বস্তির প্রধান ভরসা। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে এর চাহিদা এখন তুঙ্গে।
নাটোরের গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় বাজারের স্থানীয় পাখা বিক্রেতা রায়হান আলী জানান, বাঁশের কঞ্চি, সুতা ও তালপাতা দিয়ে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তৈরি করা হয় এসব পাখা। তালপাতা পানিতে ভিজিয়ে, শুকিয়ে এবং দেশীয় অস্ত্রের সাহায্যে কেটে বিভিন্ন আকৃতি দেওয়া হয়। এরপর সুতা দিয়ে বাঁধাই ও হাতল লাগিয়ে সবশেষে রংকরা হয়। আকার ও মানভেদে প্রতিটি পাখা ২০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে কাঁচামালের সংকট ও সামান্য মুনাফার কারণে অনেক কারিগরই এখন পেশা বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন।
বেগম রোকেয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক শাহনাজ বেগম উল্লেখ করেন, বাংলা সাহিত্য ও লোকসংস্কৃতিতে তালপাখার এক বিশেষ স্থান রয়েছে। একে ঘিরে রয়েছে নানা প্রবাদ, ছড়া ও গান। তাই গ্রামীণ ঐতিহ্যের এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সময়ের দাবি।
ইতিহাসবিদদের মতে, ভারতীয় উপমহাদেশে প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি তালপাখার ব্যবহার দুই হাজার বছরেরও বেশি পুরনো। আবহমান বাংলার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য এই লোকশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে এখন প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, কারিগরদের জন্য সহজ ঋণ ও সুনির্দিষ্ট বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা। অন্যথায় বাংলার এই হাজার বছরের ঐতিহ্য কেবল স্মৃতিতেই রয়ে যাবে।