বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্গনে প্রফেসর ড. আবদুল মঈন খান এক অনন্য বুদ্ধিবৃত্তিক ও বহুমুখী প্রতিভার নাম। কেবল দলীয় রাজনীতির গণ্ডিতে নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে তিনি বিজ্ঞান, গবেষণা, শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। নিউক্লীয় পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি অর্জনকারী এই ব্যক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে নীতিনির্ধারণী ভূমিকা পালন করেছেন। একটি সম্ভ্রান্ত ও দেশপ্রেমিক পরিবারে বেড়ে ওঠা মঈন খানের কর্মজীবনে বিজ্ঞানমনস্কতা ও জনসেবার এক অপূর্ব সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়।
রাজনীতির ময়দানে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি দীর্ঘকাল সক্রিয় রয়েছেন। ২০০১ সালে বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালে দেশে আইসিটি খাতের উন্নয়ন, সাবমেরিন কেবল সংযোগ এবং সাইবার আইন প্রণয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দেন। এছাড়া পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে তৃণমূলের অংশগ্রহণে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের ধারণাকে তিনি জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন। তার রাজনৈতিক আদর্শে যুক্তির প্রাধান্য, বিশ্লেষণধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি এবং আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি সবসময়ই স্পষ্ট ছিল।
একইসাথে একজন লেখক হিসেবেও তিনি নিজের সৃজনশীলতা ফুটিয়ে তুলেছেন; তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলো তার বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্বের পরিচয় দেয়। পদার্থবিজ্ঞানের গবেষক থেকে রাষ্ট্রচিন্তক—এই দীর্ঘ অভিযাত্রায় তিনি প্রমাণ করেছেন যে, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতিকেও জনকল্যাণের এক শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। সম্প্রতি দায়িত্বশীল পদে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তার কর্মময় জীবনের আরও একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে।