দুই বছর আগে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ছিল এক যুগান্তকারী ঘটনা। দেড় দশকের কর্তৃত্ববাদী শাসন, ভোটাধিকার হরণ এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে তরুণদের এই লড়াই একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। তবে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ও পরবর্তী রাজনৈতিক সরকারগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং পুরোনো শাসন কাঠামোর প্রভাবে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এখনো অসম্পূর্ণ। যদিও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন একটি বড় অর্জন, তবুও জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষাগুলো বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
জুলাই সনদের ভিত্তিতে বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবিগুলো এখনো বাস্তব রূপ পায়নি। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং কর্মসংস্থানের সংকট সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতার অদলবদলের চেয়ে রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগত রূপান্তরই এখন সময়ের দাবি। ইতিহাস বলছে, কেবল সরকার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়; বরং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং তরুণ প্রজন্মের হতাশা দূর করাই এখন দেশের অগ্রগতির প্রধান শর্ত।