মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২৬ অপরাহ্ন
Title :
জলাবদ্ধতা ও গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধান দাবি জামায়াতের সুন্দরগঞ্জে জমির মাটি ভরাট করায় জলাবদ্ধতা, বিপাকে তিন ইউনিয়নের হাজারো কৃষক সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের ফোন ব্যবহার নিয়ে যা বললেন কারা মহাপরিদর্শক জিয়া ও খালেদার সমাধিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্যদের শ্রদ্ধা মনিপুর ও ভবানীপুর বিটের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের স্বার্থে বনভূমি ব্যবহারের প্রশ্ন সরকার বদলেছে, রাষ্ট্র কি বদলেছে? স্থানীয় সরকারের ৫ নির্বাচন চলতি অর্থবছরে: শাহে আলম স্থানীয় সরকার নির্বাচন চলতি অর্থবছরেই: শাহে আলম খিলক্ষেতের সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় মেজর সাদিক গ্রেফতার জ্বালানি ও ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত

সরকার বদলেছে, রাষ্ট্র কি বদলেছে?

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ০ Time View
1

বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে প্রায়ই নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখা হলেও, একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকে যায়—সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে রাষ্ট্র কি আদতে পরিবর্তিত হয়? সরকার কেবল একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ক্ষমতায় থাকা পক্ষ, কিন্তু রাষ্ট্র হলো একটি দীর্ঘস্থায়ী কাঠামো। প্রকৃত রাষ্ট্র পরিবর্তন তখনই ঘটে, যখন বিচারব্যবস্থা, পুলিশ ও প্রশাসন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং নাগরিকের পরিচয় নির্বিশেষে আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি সরকারের পতনের গল্প নয়, বরং এটি ছিল রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার বিরুদ্ধে জনমানসের সুগভীর আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ।

সংস্কার বলতে কেবল সংবিধানের ধারা বদল বা নির্বাচনব্যবস্থার পরিবর্তন বোঝায় না, বরং এর লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন এক ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাষ্ট্রের ওপর কর্তৃত্ব আরোপ করতে না পারে। একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের পরিচয় তার বড় বড় অবকাঠামো বা জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে নয়, বরং নাগরিকের দ্রুত ও সহজ সরকারি সেবা প্রাপ্তি এবং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ সৃষ্টির মাঝে নিহিত। উন্নয়নের প্রকৃত মাপকাঠি হলো প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, যা রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেও রাষ্ট্রকে ধারাবাহিকতা প্রদান করে।

ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে প্রথাগত মুখস্থনির্ভর শিক্ষার বদলে সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা ও উদ্ভাবনী শক্তির ওপর জোর দেওয়া অপরিহার্য। একইভাবে, প্রযুক্তিকে কেবল ব্যবহারের মাধ্যম নয়, বরং উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। সর্বশেষে, রাজনৈতিক দলগুলোকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, ক্ষমতা কোনো দলের সম্পত্তি নয় বরং জনগণের আমানত। সরকার পরিবর্তনের পরেও যদি পুরোনো প্রশাসনিক সংস্কৃতি ও ক্ষমতার দাপট বহাল থাকে, তবে রাষ্ট্র রূপান্তরের সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com