ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে প্রয়োজনের তুলনায় সার সংকট ও বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারকে ঘিরে অবরুদ্ধ করে রাখেন ক্ষুব্ধ কৃষকেরা। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার সোনাহাট ইউনিয়নের পাটেশ্বরী ব্রিজপাড় এলাকায় বিএডিসি-র সার ডিলার আমজাদ হোসেনের ‘মেসার্স আফি সার ঘরে’ সার বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। নির্দিষ্ট সময়ে প্রচুর সংখ্যক কৃষক সেখানে ভিড় করেন। তবে চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ার শঙ্কায় কৃষকদের একাংশ ক্ষুব্ধ হয়ে খোলা বাজারে সার বিক্রির দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন এবং কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করেন।
খبر পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেক, ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোলা বাজারে সার বিক্রির বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দিলে কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর উপস্থিত কৃষকদের মাঝে ৩৩৫ বস্তা ডিএপি, ৯৫ বস্তা টিএসপি এবং ১৫৭ বস্তা এমওপি সার সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হয়।
ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, সারের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে খালি হাতে ফেরেন। সার কিনতে গিয়ে পুরো একটি কর্মদিবস নষ্ট হওয়ায় তাদের প্রায় ৭০০ টাকার দৈনিক মজুরি লোকসান হয়। খোলা বাজারে সার বিক্রির স্থায়ী ব্যবস্থা করা হলে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলত বলে জানান তারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার জানান, সোনাহাট ইউনিয়নের নির্ধারিত ওয়ার্ডগুলোতে সার বিতরণের কথা থাকলেও অতিরিক্ত কৃষকের উপস্থিতিতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং তাকে অবরুদ্ধ করা হয়। ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিরাপদে সার বিতরণ সম্পন্ন করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেব নাথ জানান, বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে। খোলা বাজারে সার বিক্রির দাবির বিষয়ে বিকেলেই উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির জরুরি সভা ডাকা হয়েছে এবং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।