মোঃ মাইনুল হক নীলফামারী
নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বস্তরের মানুষের কাছে ‘সুলতান ভাইজান’ নামে পরিচিত ইমরান হোসাইন সুলতান। মানবসেবাকে জীবনের ব্রত হিসেবে বেছে নিয়ে তিনি নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ২০১৬ সালে নিজ উদ্যোগে ‘হিউম্যানিটি অফ সৈয়দপুর’ নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবন ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চমৎকার সমন্বয়ে গড়া তাঁর এই কর্মকাণ্ড আজ উত্তর জনপদে মানবতার এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।
সংগঠনটির ব্যানারে বছরজুড়েই পরিচালিত হয় নানা ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি। এর মধ্যে রয়েছে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ, পবিত্র রমজানে ইফতার ও সেহরি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া, ঈদুল ফিতরে দুস্থ শিশুদের মাঝে নতুন পোশাক এবং বয়স্কদের মাঝে শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ। এছাড়া ঈদুল আজহায় অসহায় মানুষের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণের মতো মহৎ উদ্যোগ নিয়মিতভাবে বাস্তবায়ন করে আসছে সংগঠনটি। উল্লেখ্য, এই তরুণ সংগঠক নিজে এ পর্যন্ত ২৪ বার রক্তদান করেছেন।
করোনা মহামারীর কঠিন দিনগুলোতে সুলতান ভাইজানের সাহসিকতা ও মানবপ্রেম নতুন মাত্রা পায়। যখন চরম আতঙ্কে অনেকে মৃতদেহের কাছে যেতেও দ্বিধাবোধ করতেন, তখন তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা রোগীদের বাড়িতে বিনামূল্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দিয়েছেন এবং তা সেট করে দিয়েছেন। হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা পরিবারগুলোর দ্বারে দ্বারে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া এবং করোনায় মৃত্যুবরণকারীদের দাফন ও সৎকার কাজ অত্যন্ত যত্নের সাথে সম্পন্ন করেন তিনি। দুর্দিনের এই সম্মুখসারির যোদ্ধা এভাবেই সৈয়দপুরবাসীর মনে স্থায়ী জায়গা করে নেন।
তাঁর এই অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ উপজেলা ও জেলা প্রশাসন থেকে তাঁকে ‘শ্রেষ্ঠ স্বেচ্ছাসেবক’ এবং তাঁর সংগঠনকে ‘শ্রেষ্ঠ সংগঠন’ হিসেবে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া তিনি নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার ২৩টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের জোট ‘সৈয়দপুর ইউনাইটেড ভলান্টিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (Suva)’-এর সভাপতির দায়িত্বেও সফলতার স্বাক্ষর রাখেন।
মাঠে-ময়দানে মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা এই নিঃস্বার্থ কর্মীর জনহিতকর কাজ দেখে এবার সৈয়দপুর পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষ তাঁকে আসন্ন পৌর নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জোরালো অনুরোধ জানিয়েছেন। জনগণের ভালোবাসার প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি আমৃত্যু মানবসেবা চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বিজয়ী হলে এলাকার অবহেলিত মানুষের অধিকার আদায় এবং সৈয়দপুর পৌরসভাকে একটি আধুনিক, দুর্নীতিমুক্ত ও জনকল্যাণমুখী মডেল ওয়ার্ডে রূপান্তর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এই মানবতার ফেরিওয়ালা।