ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে সার ডিলার মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের গুদামের বেড়া ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে। প্রতিবেদনে সার ডিলারের গাফিলতি, সার বিক্রির রসিদ না দেওয়া, রেজিস্টার ঘষামাজা এবং সিন্ডিকেটসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেকের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে একই রাতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিবেদনটি কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়।
এদিকে, তদন্তে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু বিষয় উঠে না আসায় প্রতিবেদনটি নিয়ে স্থানীয় জনমনে প্রশ্ন ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ঘটনার আগের দিন শনিবার শিলখুড়ি ইউনিয়ন কৃষক দলের সদস্য সচিব মো. এনামুল হক তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সার সংক্রান্ত একটি স্ট্যাটাস দেন। ওই পোস্টে ইউনিয়নের সার ডিলারদের নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহিতার আওতায় আনার কথা উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি কৃষক দলের নেতাকর্মীদের পরদিন সকাল ৯টায় উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, শিলখুড়ি ইউনিয়ন বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার ভাই ইউনিয়নের একজন অনুমোদিত সার ডিলার। এছাড়া ইউনিয়নে কয়েকজন খুচরা সার বিক্রেতাও রয়েছেন। তাদের ইউরিয়া সার সরবরাহ না করায় ডিলারের ওপর তাদের ক্ষোভ ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে, রোববার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাকক্ষে সার বিতরণ সমস্যা সমাধানে আয়োজিত জরুরি সভায় আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, সার বিতরণকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কার তথ্য তার কাছে ছিল এবং সে অনুযায়ী একটি টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। তবে ঘটনার আগে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা কৃষি কর্মকর্তাকে জানানো হয়নি কেন—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
শিলখুড়ি ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার তাইফুর রহমান মুকুল বলেন, রোববার সার বিতরণের কথা ছিল। এর আগের দিন শনিবার রাতে ইউনিয়ন কৃষক দলের সদস্য সচিব মো. এনামুল হকের দেওয়া ফেসবুক পোস্টের সঙ্গে পরদিনের ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তবে এসব বিষয় তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ না থাকায় দাখিল করা প্রতিবেদন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সংশয় ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক সুরুজ্জামান বলেন, ইউনিয়ন কৃষক দলের সদস্য সচিবকে ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। পরে পোস্টটি ডিলিট করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির সভাপতি ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেক বলেন, “ফেসবুক পোস্টের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। কৃষকদের সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।”
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, সার ডিলার আব্দুল লতিফ নামে এক ব্যক্তিকে আসামি করে সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেব নাথ বলেন, সার ডিলারকে শোকজ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
##
মোঃ রাহিজুল ইসলাম