ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) কর্তৃক প্রকাশ পেয়েছে সাহিত্য পত্রিকা ‘আভাস’। আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকাল ৫টায় ডাকসুর সভাকক্ষে পত্রিকার প্রথম সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ- ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘আভাস’ পত্রিকাটিতে স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসুকে তেমন কোনো বরাদ্দই দেওয়া হয়নি। তারপরও আমাদের প্রায় ২০টির মতো বই প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে এবং ইতোমধ্যে এর বেশ কয়েকটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রমাণ করে দিয়েছি, শিক্ষার্থীদের এবং ডাকসুর কাজকে বাধাগ্রস্ত করে কিংবা অসহযোগিতা করে আমাদের থামিয়ে দেওয়া যাবে না। শিক্ষার্থীরা আমাদের যে জনরায় দিয়েছেন, আমরা তা বাস্তবায়ন করে যাব।
ডাকসু ভিপি বলেন, আমরা প্রায় ৬০০’র বেশি লেখা পেয়েছিলাম। সেখান থেকে বাছাই করে কিছু লেখা এই সংখ্যায় প্রকাশ করেছি। শিক্ষার্থীরা বিপুল আগ্রহ নিয়ে এখানে লেখা জমা দিয়েছেন। আমরা সর্বোচ্চ সুন্দরভাবে এই প্রকাশনাটি প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি।
ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ডাকসু শিক্ষার্থীদের কল্যাণে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছে এবং এসব কাজে অর্থও ব্যয় করেছে। কিন্তু যেকোনো কিছু শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হয় সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে। সাহিত্যের মাধ্যমেই একটি সময়ের কাজ ও চিন্তা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে।
‘আভাস’ পত্রিকাটি শতবর্ষ টিকে থাকার প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা এই পত্রিকাটির মাধ্যমে উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি তাদের লেখালেখির হাত আরও শাণিত করবেন।
ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, ডাকসুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর মধ্যে একটি ছিল সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ করা। আমরা সেই পত্রিকা প্রকাশ করতে পেরেছি, এজন্য অত্যন্ত আনন্দিত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবহেলা না থাকলে এই প্রকাশনাটি আরও অনেক আগেই প্রকাশ করা সম্ভব হতো। পত্রিকাটিতে অনেক শিক্ষার্থীর লেখা প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হয়েছে, যা তাদের ভবিষ্যতে আরও বেশি লেখালেখিতে উৎসাহিত করবে।
অনুষ্ঠানে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য আফসানা আক্তার বলেন, এই সংখ্যায় আমরা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গল্পগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেছি। পরবর্তী সংখ্যাগুলোতে জুলাইয়ের বিষয়সহ সাহিত্যের অন্যান্য বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, এই সংখ্যাটি আমাদের আরও অনেক আগেই প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ব্যক্তিগত ও বেসরকারি উৎস থেকে অর্থের ব্যবস্থা করে পত্রিকাটি প্রকাশের উপযোগী করতে আমাদের অনেক সময় লেগেছে।
তিনি আরও বলেন, আশা করি বাকি দুই সংখ্যাও শিগগিরই প্রকাশিত হবে। আপাতত শিক্ষার্থীরা ডাকসু থেকে ‘আভাস’ সংগ্রহ করতে পারবেন। ভবিষ্যতে রকমারি ডটকমসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে পত্রিকাটি পাওয়া যাবে।
পত্রিকার সহ সম্পাদক আশফাকউল্লাহ আসিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- ডাকসুর আন্তর্জাতিক সম্পাদক জসিমউদদীন খান, ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, সমাজসেবা সম্পাদক এবি যুবায়ের, কার্যনির্বাহী সদস্য আনাস ইবনে মনির, সূর্যসেন হল সংসদের ভিপি আজিজুল ইসলাম, জহুরুল হক হলের ভিপি আহসান হাবীব ইমরোজ প্রমুখ।