সুলতান আহমেদ ময়না
পৈতৃক ও রেকর্ডভুক্ত জমি দখলের উদ্দেশ্যে বসতবাড়িতে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও সব মালামাল লুটপাটের পর ঘর হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে একটি সংখ্যালঘু পরিবার। আদালত ও ভূমি সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও শেরপুর সদর এসি ল্যান্ড অফিস কর্তৃক নিয়মবহির্ভূতভাবে জমা-খারিজ (মিউটেশন) বাতিল করায় ভূমিদস্যুরা এই তাণ্ডব চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভুক্তভোগী পরিবারের ঘরের কোনো অস্তিত্ব নেই। ভাঙচুর ও লুটপাটের পর মাথা গোঁজার একমাত্র একচালা ঘরটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভিটেমাটির ওপর খোলা আকাশের নিচে পরিবার-পরিজন নিয়ে অসহায় ও শোকার্ত অবস্থায় অবস্থান করছেন তারা।
এর আগে বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করার সময় নিজ ভিটেমাটি হারানোর বেদনা ও নিরাপত্তার আতঙ্কে কান্নায় ভেঙে পড়েন ভুক্তভোগী প্রাণেশ চন্দ্র নন্দী ও তাঁর বৃদ্ধা মা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শহরের ঢাকলহাটি এলাকার বাসিন্দা মৃত দিনেশ চন্দ্র নন্দীর ছেলে প্রাণেশ চন্দ্র নন্দী জানান, ঢাকলহাটি এলাকায় তাঁদের পৈতৃক ও স্বত্বদখলীয় সম্পত্তিটি সিএস, আরএস এবং বিআরএস—তিনটি রেকর্ডেই তাঁদের নামে চূড়ান্তভাবে নিবন্ধিত। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে খারিজ-খাজনা দিয়ে বংশপরম্পরায় সেখানে বসবাস করে আসছিলেন।
তবে স্থানীয় প্রভাবশালী মো: রমজান আলী মোল্লা ও মো: মনি মোল্লা উক্ত খারিজ বাতিলের জন্য শেরপুর সদর এসি ল্যান্ড অফিসে আবেদন করেন। জমিটির মালিকানা ও জমা-খারিজ সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও এসি ল্যান্ড অফিস আইনবহির্ভূতভাবে প্রতিপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাঁদের জমা-খারিজটি বাতিল করে দেয়। আইন অনুযায়ী মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় এসি ল্যান্ড অফিসের এমন পদক্ষেপে প্রতিপক্ষ আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করে, এসি ল্যান্ড অফিসের সিদ্ধান্তের সুযোগ নিয়ে গত ১৫ আগস্ট (শনিবার) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে প্রতিপক্ষ মো: রমজান আলী মোল্লা ও মো: মনি মোল্লার নেতৃত্বে ৩০-৪০ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী বেআইনিভাবে তাঁদের বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। সন্ত্রাসীরা একচালা ঘরটি সম্পূর্ণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় এবং ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র (খাট, আলনা, টেবিল), সোনা-গহনা, নগদ ২ লাখ টাকা, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ জরুরি কাগজপত্র ও গৃহস্থালি সামগ্রী পিকআপ ভ্যানে তুলে লুট করে নিয়ে যায়।
হামলায় বাধা দিলে পরিবারের নারী সদস্যদের ওপর শারীরিক নির্যাতন ও দেশীয় অস্ত্রের মুখে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাঁদের আনুমানিক ৬ লাখ ৮১ হাজার ৫০০ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে কাঁদতে কাঁদতে প্রাণেশ চন্দ্র নন্দী বলেন, “আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে সব নিয়ে গেছে, এখন আমরা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছি। আমাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।”
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয়ভাবে জানানোসহ শেরপুর সদর থানায় মৌখিকভাবে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। সংবাদ সম্মেলন থেকে তাঁরা জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে ৩ দফা দাবি জানান:
১. হামলা ও লুটপাটে জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনানুগ শাস্তি প্রদান।
২. দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন অবস্থায় এসি ল্যান্ড অফিসের নেওয়া পদক্ষেপ পুনর্বিবেচনা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।
৩. খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটানো পরিবারটির সার্বিক নিরাপত্তা বিধান করা