কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ডিলারের গুদাম থেকে লুট হওয়া সারের ১১৫ বস্তা উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন গুদাম মালিক। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি।
জানা যায়, উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের গুদামে সার মজুত থাকার পরেও সার না দেওয়ায় ‘বিক্ষুব্ধ’ হন কৃষকরা। রোববার সকালে তারা গুদামের বেড়া ভেঙে ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে যান। পরে তারা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে এ সোমবার দুপুর পর্যন্ত ১১৫ বস্তা সার ফেরত দিয়ে গেলেও এখনো উদ্ধার হয়নি ৮২ বস্তা। সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলমান।
এদিকে ঘটনার দিনেই মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমান মুকুল বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিসিআইসির সার ডিলার মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজকে শোকজ করেছে কৃষি বিভাগ। ঘটনা তদন্তে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেককে সভাপতি, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারকে সদস্যসচিব, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাজমুল হুদা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সবুজ কুমার গুপ্ত ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সাইফুর রহমানকে সদস্য করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয় উপজেলা প্রশাসন। সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন তারা।
ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান, মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমান মুকুল বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
তদন্ত কমিটির সভাপতি সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেক বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আছি। প্রত্যক্ষদর্শী, ডিলার ও কৃষকদের সাথে কথা বলে সার নিয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের পরে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেবনাথ বলেন, সোমবার দুপুর পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ কৃষকদের নিয়ে যাওয়া সারের মধ্য থেকে ১১৫ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে। সার ডিলারকে কৃষি অফিস থেকে শোকজ (কারণ দর্শানো নোটিশ) করা হয়েছে। গত রোববার সার নিয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে রাতেই পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সোমবারের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।