ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বক্তারা রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কেবল মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভর না করে বলিষ্ঠ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার আয়োজিত এই সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করেছেন যে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদান এবং তাদের মৌলিক অধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়।
সেমিনারে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে, এই সংকট কেবল বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। আসিয়ান ও জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে, মিয়ানমারের চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নিরসন এবং রোহিঙ্গাদের জাতিগত স্বীকৃতি ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদানই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের প্রধান চাবিকাঠি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
প্রধান অতিথি ও অন্যান্য আলোচকরা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ক্যাম্পে দীর্ঘ সময় অবস্থানের ফলে উদ্ভূত নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলায় একটি সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল ও সক্রিয় কূটনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।