ইরানের বিরুদ্ধে এবার সর্বাত্মক অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বিশ্বজুড়ে তেহরানের অর্থনৈতিক স্বার্থে আঘাত হানার এবং আয় বন্ধ করার এই পদক্ষেপের কথা জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন নিষেধাজ্ঞার নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’। বেসেন্ট এই পদক্ষেপকে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ (অর্থনৈতিক চূড়ান্ত আক্রমণের দিন) হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
স্কট বেসেন্ট জানান, তেল খাতসহ ইরানের আয়ের প্রতিটি উৎসে মার্কিন নজরদারি ও নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে, যাতে অন্য কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠান তাদের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করতে না পারে।
এক বিবৃতিতে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি বলেন, “বিশ্বজুড়ে আমাদের মূল লক্ষ্য হলো এই স্বৈরাচারী শাসনের টিকে থাকার প্রতিটি অর্থনৈতিক পথ বন্ধ করা, যতক্ষণ না তেহরান পুরোপুরি একঘরে হয়ে পড়ে।
”
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদ্দেশ্যে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখন যুক্তরাষ্ট্র অথবা ইরানের যেকোনো একটিকে বেছে নিতে হবে। নতুন এই প্রচারণার মাধ্যমে তেহরানের বাণিজ্য সহযোগীদের ওপর দ্বিতীয় স্তরের নিষেধাজ্ঞা (সেকেন্ডারি পেনাল্টি) আরোপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। বেসেন্ট জোর দিয়ে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে কেউই নয়।”
তিনি আরও জানান, যে সব দেশ বা সত্ত্বা ইরানকে সহায়তা করবে, লেনদেন সহজ করবে কিংবা তাদের তেলকে অর্থে ও নিপীড়নের হাতিয়ারে পরিণত করার প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবে, তাদেরকেই লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে মিত্রবাহিনীর বিখ্যাত ‘ডি-ডে’ অভিযানের সঙ্গে তুলনা করে বেসেন্ট এই কঠিন বার্তা দেন।
সোমবারের এই প্রচারণায় সরাসরি বড় কোনো আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না হলেও, একে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠানের জন্য চরম সতর্কতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।