দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সকল ধরনের বদলি কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ স্থগিত ঘোষণা করেছে সরকার। সম্প্রতি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। মূলত নতুন করে প্রায় সাড়ে চৌদ্দ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ এবং তাদের কর্মস্থলে পদায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই বদলি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারি নীতিমালার আলোকে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াটি সুচারুভাবে সম্পন্ন করতেই এই সাময়িক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান যে, নতুন শিক্ষকদের পদায়ন সম্পন্ন হওয়ার পর বদলি প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে সেই সময়ে বর্তমান প্রচলিত নীতিমালার আওতায় বদলি কার্যক্রম পরিচালিত হবে, নাকি সম্পূর্ণ নতুন কোনো পদ্ধতি বা নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে, সে বিষয়ে পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, এই বদলি বন্ধের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা ডেডলাইন নির্ধারণ করা হয়নি, অর্থাৎ কার্যক্রমটি অনির্দিষ্টকালের জন্যই স্থগিত থাকবে। প্রশাসনিক কাগজপত্র চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার বিষয়টি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে বলে জানান তিনি।
শিক্ষকদের একাংশের পক্ষ থেকে ন্যায্যতার ভিত্তিতে বদলি না হওয়ার যে অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়েও কথা বলেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালায় ‘ন্যায্য বদলি’ বিষয়টি স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত না থাকায় কোনটা ন্যায্য আর কোনটা অযৌক্তিক তা নির্ধারণ করা প্রায়ই কঠিন হয়ে পড়ে। বিদ্যমান নীতিমালায় সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা না থাকার কারণে এই জটিলতার সৃষ্টি হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। বদলি প্রক্রিয়া পুনরায় চালু হলে এই ধরনের জটিলতা ও সংশ্লিষ্ট নানা প্রশ্নের যৌক্তিক সমাধান দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
এদিকে শিক্ষক সমাজের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষকদের নতুন বেতন কাঠামো তৈরির কাজও বর্তমানে চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এই সংক্রান্ত কাজ শুরু করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় রূপরেখা তৈরি করছে। অধিদপ্তর থেকে চূড়ান্ত প্রস্তাব পাওয়ার পর মন্ত্রণালয় তা পর্যালোচনা করে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করবে এবং এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। নতুন শিক্ষক পদায়ন এবং সার্বিক কাঠামোগত সংস্কার সম্পন্ন হলে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে আরও বেশি গতিশীলতা আসবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।