ইবি প্রতিনিধি :
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) মব জাস্টিস বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার-সহ পাঁচ দফা দাবিতে প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে শাখা ছাত্রশক্তি। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করে সংগঠনটি।
স্মারকলিপিতে উত্থাপিত দাবিগুলো হলো- বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ বৃদ্ধি, নারী শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশ সময় বৃদ্ধি ও মব জাস্টিস বন্ধ।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান বলেন, শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে এসেছে, তারা এখানে একদলের রামদা আরেক দলের পিভিসি পাইপের মহড়া দেখতে আসেনি। এছাড়া এসকল ঘটনার সুযোগে কেও যেনো মাথাচাড়া দিয়ে না ওঠে প্রশাসনকে সে বিষয়ে সর্বোচ্চ নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি।
প্রক্টর অধ্যাপক ড.শাহীনুজ্জামান জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলার স্বার্থে শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড পরীক্ষা করে প্রবেশ করানো হচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে গভীর রাতেও টহল জোরদার করা হয়েছে। এসময় সংগঠনটির বাকি দাবিগুলো ভিসি বরাবর উপস্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে শিবির নেতাকে ছাত্রদল কর্মীর থাপ্পড় মারার ঘটনা ঘটে। তবে উভয় পক্ষ সমাধানের উদ্দেশ্যে প্রভোস্ট কক্ষে বসলেও হলের বাইরে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের ধস্তাধস্তিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযুক্তকে হল থেকে উদ্ধার করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে বিকেলে শাখা ছাত্রদল ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে লাঠিসোটা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে ও জিয়া মোড়ে লাঠিসোটা নিয়ে অবস্থান নেয় শিবিরের নেতাকর্মীরা। পরে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেয় ছাত্রদল ও বহিরাগত বিএনপির নেতাকর্মীরা। এসময় অনেকের হাতে দেশীয় অস্ত্র রামদা, ছুরি ও হাতুড়ি দিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায়। পরে সেখানে স্থানীয় জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।