নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর বদলগাছীতে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকার সুযোগ নিয়ে দিনদুপুরে একটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষ শামিম হোসেন (৩৫) ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে এই হামলা চালিয়ে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার লুট এবং ২১টি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
গত বুধবার দুপুরে উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের বারাতৈল গ্রামে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে বারাতৈল গ্রামের মৃত মজিবর মন্ডলের ছেলে বজলুর হোসেন একই গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে শামিমের কাছে একটি জমি বিক্রি করেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে বজলুর রহমানের বড় ভাই মোজাম্মেল হোসেন (৭০) জমিটি পরিবারে ধরে রাখার দাবি জানিয়ে আদালতে প্রিয়েমশন মামলা করেন।
এই ক্ষোভের জেরে শামিম মোজাম্মেলসহ সাতজনের বিরুদ্ধে একটি হুমকির মামলা করেন। বুধবার ওই মামলার হাজিরা দিতে তারা আদালতে গেলে বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগ নেন শামিম। তিনি ৫০ থেকে ৬০ জন লোক নিয়ে দেশীয় ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রাচীর টপকে ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন। এরপর ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার এবং জমি কেনার জন্য ঘরে রাখা নগদ ৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যান।
শুধু তাই নয়, বাড়ির পাশের জমির বড় বড় মেহগনি ও আম গাছসহ মোট ২১টি গাছ কেটে ফেলা হয়। এ সময় বাধা দিতে গেলে ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মোজাম্মেল হোসেন বলেন, “সন্তানের মতো যত্ন করে গাছগুলো বড় করেছিলাম, আজ সব কেটে নিয়ে গেছে। এছাড়া জমি কেনার জন্য আমার পাঠানো ৫ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকারও লুট করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।”
অপর ভুক্তভোগী নজীম উদ্দিন জানান, জমি নিয়ে বিরোধ থাকলে আদালত ফয়সালা করবে, কিন্তু আদালতে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে এ ধরনের হামলা ও লুটপাট মেনে নেওয়া যায় না। ভয়ে আশপাশের লোকজনও এগিয়ে আসতে পারেনি।
তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শামিম বলেন, “আমি আমার নিজের জায়গায় গাছ কেটেছি। তবে বাড়িঘরে হামলা বা ভাঙচুরের কোনো বিষয় আমার জানা নেই।”
এ বিষয়ে বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনাটির বিষয়ে তিনি শুনেছেন, তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।