দেশের জ্বালানি খাতের রূপান্তর ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনতে একটি সুদূরপ্রসারী মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অন্তত ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের দায়িত্বশীল মহল মনে করছে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সম্প্রতি এক সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে নবায়নযোগ্য শক্তির বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের বিস্তার ঘটানোর ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন। তার মতে, প্রথাগত বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে বিকল্প শক্তির উৎসগুলোকে কাজে লাগাতে না পারলে ভবিষ্যতে বড় ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।
সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের এই বিশাল লক্ষ্য অর্জনের জন্য দেশের বিভিন্ন অব্যবহৃত স্থানকে চিহ্নিত করে কাজে লাগানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেছেন যে, সাধারণ মানুষের বাড়ির ছাদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ফাঁকা বা অব্যবহৃত জমি—যেখানেই সুযোগ রয়েছে, সেখানেই সোলার প্যানেল স্থাপন করতে হবে। এই বিকেন্দ্রীকৃত পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ অনেকটাই কমে যাবে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে।
বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই সোলার পাওয়ার মহাপরিকল্পনাকে সময়োপযোগী ও অত্যন্ত ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প নেই, আর তাই পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে ঝোঁকা জরুরি হয়ে পড়েছিল। এখন যথাযথ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং মাঠপর্যায়ে তার সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।