সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৬ অপরাহ্ন
Title :

দোকানে মেলে না ৫ টাকার পেনসিল, আকার কমেছে রাবারের

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪ Time View
5

দেশের বাজারে অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষা উপকরণের দাম চড়া রয়েছে। গত চার বছরের ব্যবধানে খাতা, কলম, জ্যামিতি বক্সসহ প্রায় সব স্টেশনারি সামগ্রীর দাম প্রায় দেড়গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক বছর ধরে এই চড়া দামেই বাজার স্থিতিশীল রয়েছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খরচে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। উচ্চবিত্ত পরিবারগুলো এই বাড়তি ব্যয়ের চাপ সহজে সামলে নিতে পারলেও নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অভিভাবকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। পরিবারের মাসিক বাজেটে শিক্ষা খাতের ব্যয় মেটাতে গিয়ে অনেককেই এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে এবং প্রয়োজনের তুলনায় কেনাকাটা কমিয়ে দিতে হচ্ছে।

খাতাপত্রের বাজারে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, বিভিন্ন সাইজের প্রতিটি খাতার দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। পূর্বে যে ১২৪ পৃষ্ঠার খাতা ৩৫ টাকায় পাওয়া যেত, তা বর্তমানে বেড়ে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ৩০০ পৃষ্ঠার খাতা ৬৫ টাকা থেকে বেড়ে এখন ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এছাড়া ১৬০ পৃষ্ঠার খাতা ৬০ টাকা, ২০৪ পৃষ্ঠার খাতা ৮০ টাকা এবং ৭২ থেকে ৯৬ পৃষ্ঠার ব্যবহারিক খাতাগুলো ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের রেজিস্টার খাতা ও এ-৪ সাইজের কাগজপত্রের দামও প্যাকেটপ্রতি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত এক বছর ধরে একই উচ্চমূল্যে স্থির রয়েছে।

খাতার পাশাপাশি লেখালেখির প্রধান মাধ্যম কলমের দামও পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়েই বেড়েছে। আগে যে কলমের ডজন ৪৫ টাকা ছিল, তা বেড়ে ৫০ টাকা হয়েছে এবং খুচরা পর্যায়ে প্রতি পিস কলম ৫ থেকে ৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারের পরিস্থিতি এতটাই বদলে গেছে যে এখন পাঁচ টাকা মূল্যের কোনো পেনসিল আর সচরাচর খুঁজে পাওয়া যায় না। রাবারের দাম কাগজে-কলমে একই থাকলেও এর আকার বা সাইজ আগের তুলনায় অনেক ছোট করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এক বছর আগে যে জ্যামিতি বক্সের দাম ৬০ টাকা ছিল, বর্তমানে তা কিনতে ক্রেতাকে ১০০ টাকা গুনতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কাঁচামাল ও কাগজের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে তাদের বেশি দামে স্টেশনারি পণ্য কিনতে হচ্ছে। যশোরে অবস্থিত বিভিন্ন বই ও স্টেশনারি দোকানের বিক্রেতারা বলছেন, উৎপাদন খরচ ও আনুষঙ্গিক ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। এমনকি ফটোকপির খরচও বেড়ে গেছে, কারণ কালি ও কাগজের দাম বৃদ্ধির ফলে দোকানিদের লাভের পরিমাণ কমে গেছে। অন্যদিকে অভিভাবকদের ভাষ্যমতে, জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে বাড়ছে তাতে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের পক্ষে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে পড়াশোনার খরচ মেটাতে গিয়ে অভিভাবকদের বাধ্য হয়েই হিসাবি জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com