সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫১ অপরাহ্ন
Title :
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নওগাঁর মান্দায় অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেফতার দুই ব্যবসায়ী স্বপ্নের ইউরোপ: মৃত্যুর দুয়ার থেকে মিশরে ৫৫ বাংলাদেশি শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞা কি কাজ করছে? ব্যাংকে টাকা গুনছিলেন গ্রাহক, কৌশলে ৪ লাখ টাকা নিয়ে উধাও চোর চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ কোটি টাকার কাপড়ভর্তি কনটেইনার গায়েব ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মীদের সম্মানী ভাতা দেবে সরকার শ্রীপুরে প্রশাসনের নোটিশ অমান্য করে সরকারি রাস্তা কাটার অভিযোগ কুলিয়ারচরে হালচাষের ট্রাক্টর উল্টে চালকের মৃ/ত্যু দেশ ছাড়ার হিড়িক ইসরায়েলি চিকিৎসকদের

চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ কোটি টাকার কাপড়ভর্তি কনটেইনার গায়েব

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪ Time View
7

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তর থেকে প্রায় তিন কোটি টাকার তৈরি পোশাকের কাঁচামালভর্তি একটি বিশালাকার কনটেইনার রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সম্প্রতি এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক তোলপাড় ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পণ্যগুলো খালাস করার দায়িত্বপ্রাপ্ত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বন্দরের ইয়ার্ডে গিয়ে কনটেইনারটির কোনো হদিস পাননি। অত্যন্ত সুরক্ষিত বন্দর চত্বর থেকে এত মূল্যবান একটি পণ্যভর্তি কনটেইনার কীভাবে গায়েব হয়ে গেল, তা নিয়ে বর্তমানে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

বন্দর ও কাস্টমস সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ‘এমভি এমসিসি ডানাং’ নামক একটি জাহাজ গত ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-২ বার্থে নোঙর করে এবং সেখানে থাকা ৪০ ফুট দীর্ঘ একটি কনটেইনার খালাস করা হয়। ওই কনটেইনারটিতে (নম্বর: এমআরএসইউ-৮৬৯২৮২৭) সাভারের কালিয়াকৈর এলাকার স্বনামধন্য রপ্তানিমুখী পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান গোল্ড স্টার গার্মেন্টস লিমিটেডের জন্য আমদানिकৃত ৬৬৮ বেল বা রোলের সমপরিমাণ ফেব্রিক্স বা কাপড় ছিল। নিয়ম অনুযায়ী জাহাজ থেকে নামানোর পর কন্টেইনারটি বন্দরের নির্দিষ্ট ইয়ার্ডে সংরক্ষণের জন্য রাখা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে তা আমদানিকারকের কাছে হস্তান্তর করার কথা ছিল।

পণ্য খালাসের সার্বিক প্রক্রিয়া তদারককারী সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এস আর এস সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সার্ভারে গত ২২ আগস্ট যথাযথ নিয়মে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা হয়েছিল। এর পরপরই কাস্টমস কর ও বন্দরের যাবতীয় প্রাতিষ্ঠানিক চার্জ বা রাজস্ব পুরোপুরি পরিশোধ করা হয়। কিন্তু গত ৩০ আগস্ট যখন সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিবৃন্দ সিসিটি ইয়ার্ডে কনটিইনারটি ডেলিভারি নেওয়ার উদ্দেশ্যে যান, তখন বন্দর কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত স্থানে সেটির অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি এবং ডেলিভারি দিতে ব্যর্থ হয়।

পরবর্তীতে দীর্ঘ কয়েক দিন ধরে বন্দরের বিভিন্ন স্থানে নিজেদের উদ্যোগে কনটেইনারটি হন্যে হয়ে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে, সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. হাফিজুর রহমান গত ২ সেপ্টেম্বর বন্দর চেয়ারম্যানের দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধি জানান যে, এই চালানের কাপড়গুলো শতভাগ রপ্তানিমুখী পোশাক তৈরির কাজে ব্যবহারের জন্য আনা হয়েছিল এবং সময়মতো এই কাঁচামাল না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ক্রেতা প্রতিষ্ঠান মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পোশাক তৈরি করে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে চালান পাঠাতে না পারলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি ও বাণিজিক সুনামের অবনতি ঘটবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে বন্দর থেকে কনটেইনার উধাও হওয়ার এই গুরুতর অভিযোগ পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগ দায়েরের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বন্দর কর্তৃপক্ষ বা তদন্ত কমিটি কনটেইনারটির সুনির্দিষ্ট কোনো অবস্থান বা হদিস জানাতে পারেনি। এই চাঞ্চল্যকর বিষয়ে বন্দর প্রশাসনের বক্তব্য জানার জন্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা সাড়া পাওয়া যায়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com