রাজধানীর কদমতলী থানাধীন শনির আখড়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে অতর্কিত গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সংঘটিত এই সশস্ত্র হামলায় একজন ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা চরম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে হামলাকারীদের মধ্য থেকে অস্ত্রসহ একজনকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে দ্রুত জরুরি সেবার নম্বরে কল করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি রাজধানীর শনির আখড়ার নূরপুর এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর অপরাধ সংঘটিত হয়। রাতের বেলা ওই এলাকার একটি দোকান থেকে জরুরি সেবায় ফোন করে এক ব্যক্তি জানান যে, সেখানে আকস্মিকভাবে ব্যাপক গোলাগুলি চলছে। কলারের এই তাৎক্ষণিক তথ্যের ভিত্তিতে ৯৯৯ কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি কদমতলী থানাকে অবহিত করে এবং পুলিশ সদস্যদের ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভুক্তভোগী আসলাম খানের ‘মেসার্স লাকি ক্রোকারিজ’ নামের দোকানে চার থেকে পাঁচজন সন্ত্রাসী হঠাৎ হামলা চালায়। জমিজমাসংক্রান্ত পুরনো বিরোধের জেরে হামলাকারীরা দোকানে প্রবেশ করে পিস্তল ও রিভলবার দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়তে থাকে। সন্ত্রাসীদের গুলিতে ও অস্ত্রের আঘাতে আসলাম খানের ডান চোয়াল ও বাম হাত মারাত্মকভাবে জখম হয়।
ঘটনার সময় স্থানীয় জনতা একত্রিত হয়ে সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং মঞ্জুরুল ইসলাম নামের ৪৪ বছর বয়সী এক হামলাকারীকে অস্ত্রসহ আটক করে। খবর পেয়ে কদমতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং স্থানীয়দের সহায়তায় মঞ্জুরুলকে গ্রেফতার করে। এ সময় পুলিশ হামলাকারীর কাছ থেকে একটি পিস্তল, একটি রিভলবার, নয় রাউন্ড তাজা গুলি এবং তিন রাউন্ড ফায়ারকৃত গুলির খোসা উদ্ধার করে। অন্যদিকে, রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় দোকান মালিক আসলাম খানকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।