সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিকটক ভিডিও তৈরি করা কেন্দ্র করে উদ্ভূত বিরোধের জেরে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় এক যুবককে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে উপজেলার খাদেমপুর ইউনিয়নের মাজহাদ গ্রামের হঠাৎপাড়া মাঠে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত সাব্বির মল্লিক ওই গ্রামের রুহুল আলী মল্লিকের ছেলে এবং অভিযুক্ত হাসিব হোসেন একই এলাকার আজিম উদ্দীনের ছেলে। এই ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ লক্ষ্য করা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত হাসিব হোসেন যখন প্রবাসে অবস্থান করছিলেন, তখন তার স্ত্রী নুপুর খাতুন টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত ভিডিও আপলোড করতেন। এই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় যুবক সাব্বির মল্লিকের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়েছিল। ঘটনার কিছুদিন আগে সাব্বির ওই নারীকে টিকটক ভিডিও তৈরি করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে দূরত্ব ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে সরাসরি সংঘাতে রূপ নেয়।
সম্প্রতি প্রবাস থেকে নিজ এলাকায় ফিরে আসেন অভিযুক্ত হাসিব হোসেন। গত ৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে সাব্বির যখন ধান মাড়াইয়ের একটি মেশিন নিয়ে মাঠে যাচ্ছিলেন, তখন পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার পথরোধ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, হাসিব ধারালো অস্ত্র নিয়ে হঠাৎ করেই সাব্বিরের ওপর চড়াও হন এবং তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। এতে সাব্বিরের পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে আহত সাব্বিরকে উদ্ধার করেন। তাকে প্রথমে স্থানীয় পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ভুক্তভোগী যুবক নিজে বাদী হয়ে অভিযুক্ত হাসিব হোসেনের বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বনি ইসরাইল জানিয়েছেন যে, ভুক্তভোগী যুবকের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে এবং ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।