সুলতান আহমেদ ময়না, শেরপুর
প্রশাসনিক কাজের গণ্ডি পেরিয়ে শেরপুর জেলা প্রশাসনের নিয়মিত গণশুনানি এখন প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের শেষ ভরসাস্থলে পরিণত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক এক গণশুনানিতে মা-হারা এক ছোট্ট শিশুর দায়িত্ব নিয়ে এবং তাকে ভালোবাসার ছায়ায় আগলে রেখে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক।
মা-হারা আব্দুল্লাহর নতুন অভিভাবক জেলা প্রশাসক
গত বুধবার শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নিয়মিত গণশুনানিতেবাবার সঙ্গে হাজির হয় মা-হারা শিশু আব্দুল্লাহ। শিশুটির সুন্দর ভবিষ্যৎ ও স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা এবং ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে নতুন পোশাক উপহার দেওয়া হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক পরম মমতায় শিশুটিকে কাছে টেনে নেন, যা উপস্থিত সকলের হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করে। প্রশাসনের এমন মানবিক উদ্যোগ ও অভিভাবকত্ব ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।
গণশুনানি: প্রান্তিক মানুষের আশার আলো
শেরপুর জেলা প্রশাসনের এই সাপ্তাহিক আয়োজন জেলার সাধারণ ও অসচ্ছল মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গণশুনানিতে আগত সেবাপ্রার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা ও আবেদন গুরুত্বের সাথে শুনে তাৎক্ষণিক সমাধান দেওয়া হয়। আজকের কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য যেসব সহায়তা প্রদান করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে:
মানবিক নেতৃত্বের এক অনন্য নজির
শেরপুরের জেলা প্রশাসক কেবল একজন দক্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তার পরিচয়ই দেননি, বরং সম্মেলন কক্ষে হতদরিদ্র প্রান্তিক মানুষদের নিজের চেয়ারে বসিয়ে সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে এক দরদী অভিভাবকের রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন। তার এই নিরলস প্রচেষ্টা শেরপুরের প্রশাসনিক সেবাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। গণশুনানির এই মানবিক ঘটনা প্রমাণ করে যে, কঠোর প্রশাসনিক কাঠামোর আড়ালেও একটি সংবেদনশীল ও মানবিক হৃদয় স্পন্দিত হতে পারে, যা শেরপুরবাসীর মনে চিরকাল স্মৃতির পাতায় উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।