সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর সাহায্যে পুরোনো দিনের আবহে ছবি তৈরির একটি অভিনব ধারা বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। আশির দশকের ফ্যাশন, চুলের স্টাইল এবং সেই সময়ের ছবি তোলার ধরন অনুসরণ করে তৈরি করা এসব ছবি দেখে মনে হয় যেন কোনো পুরোনো পারিবারিক অ্যালবাম বা ক্লাসিক স্টুডিও থেকে সেগুলো বের করা হয়েছে। এই ট্রেন্ডে সম্প্রতি মেতে উঠেছে ভারতীয় ক্রিকেট দলও, যেখানে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড দলের খেলোয়াড়দের ওপর ভিত্তি করে এআই-নিয়ন্ত্রিত এমন বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেছে। শুধু ছবি প্রকাশ করেই ক্ষান্ত থাকেনি বোর্ড, বরং সতীর্থদের সামনে সেই ছবিগুলো প্রদর্শন করে তাদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিফাও ক্যামেরাবন্দি করেছে। প্রযুক্তির এই চমকপ্রদ ব্যবহারের ফলে বর্তমানের পরিচিত তারকাদের চেহারা কয়েক দশক আগের তারুণ্যের রূপে রূপান্তরিত হয়েছিল, যা দর্শকদের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের মধ্যেও বেশ কৌতূহল ও আনন্দের সৃষ্টি করে।
তবে এই মজার আয়োজনের মধ্যে সবচেয়ে বড় চমক ও ধাঁধার সৃষ্টি করেছে তরুণ ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশীর ছবিটি। মাত্র ১৫ বছর বয়সে ভারতীয় ক্রিকেটে আলোড়ন সৃষ্টি করা এই তরুণ তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ও নির্ভীক মানসিকতার জন্য ইতিমধ্যেই ‘বয় ওয়ান্ডার’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। কিন্তু এআইয়ের জাদুতে তার অবয়ব এতটাই পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল যে সতীর্থরা তার আসল পরিচয় কিছুতেই বুঝতে পারেননি। দলের বাকি সবার ছবি সহজেই চিনতে পারলেও ১৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের ছবিটির সামনে এসে তারকা ক্রিকেটাররাও দীর্ঘক্ষণ বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন এবং কেউ ঘুণাক্ষরেও অনুমান করতে পারেননি যে এটি সূর্যবংশীরই ছবি। মাঠে তার মারমুখী ও সাহসী ব্যাটিংয়ের সুবাদে পরিচিত মুখ হলেও, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি ভিন্ন রূপটি সতীর্থদের কাছে পুরোপুরি অপরিচিত ঠেকেছিল।
মাঠের বাইরে এই মজার ঘটনা চললেও, আসন্ন ম্যাচ ঘিরে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের সামনে রয়েছে এক কঠিন কৌশলগত সিদ্ধান্ত। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে শুরু হতে যাওয়া তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম একাদশে তরুণ সূর্যবংশীকে রাখা হবে, নাকি অভিজ্ঞ ব্যাটার সাঞ্জু স্যামসনকে ফিরিয়ে আনা হবে, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এর আগে ইংল্যান্ড সফরে সূর্যবংশীকে সুযোগ দিতে গিয়ে স্যামসনকে একাদশের বাইরে রাখা হলেও, সিরিজের শেষ ম্যাচে আবার অভিজ্ঞ এই ব্যাটারকে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। ফলে দুই ভিন্ন ঘরানার ক্রিকেটারের মধ্যে কাকে রেখে কাকে একাদশ সাজানো হবে, তা নিয়ে দল নির্বাচন বেশ জটিল হয়ে উঠেছে। কোচ ও অধিনায়কের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ একদিকে যেমন সূর্যবংশীর তরুণ উন্মাদনা ও আগ্রাসী ব্যাটিং রয়েছে, অন্যদিকে তেমনই স্যামসনের পরিপক্বতা ও অভিজ্ঞতাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
দলের অনুশীলনেও দুই ক্রিকেটারের ভিন্ন প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্সের চিত্র ফুটে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে টানা প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে আসার কারণে সূর্যবংশীর ব্যাটিংয়ে কিছুটা ক্লান্তির ছাপ দেখা গেলেও, তাকে বুমরাহর মতো অভিজ্ঞ পেসারের বিরুদ্ধে কঠিন অনুশীলন করতে হয়েছে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে সূর্যবংশীর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শট খেলার নিজস্ব কৌশল অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে দলের অন্য প্রান্তে থাকা ইশান কিষানের সামান্য চোট পাওয়ার আশঙ্কা থাকায় শেষ পর্যন্ত সূর্যবংশী ও স্যামসন উভয়কেই আফগানদের বিপক্ষে মাঠে একসঙ্গে দেখার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে, এআইয়ের ছবি নিয়ে তৈরি হওয়া মজার রেশ কাটিয়ে ভারতীয় দল এখন পুরোপুরি মনোযোগ দিচ্ছে আসন্ন মাঠের লড়াই ও কঠিন একাদশ নির্বাচনের প্রক্রিয়ায়।