রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন

৬৩ বিদেশির কারও কাছে মিললো না পাসপোর্ট, খুলশীতে কী করছিলেন তারা?

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪ Time View
5

চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানা এলাকায় সম্প্রতি অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক ৬৩ জন বিদেশি নাগরিকের কারও কাছেই কোনো বৈধ পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়। এত বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের নিকট পাসপোর্ট না থাকায় তারা কোন ভিসার মাধ্যমে এবং কী উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন, সে বিষয়ে গভীর রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই বিষয়টির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

আটক হওয়া বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে লাওসের ৩৪ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের ৫ জন, নেপালের ১ জন এবং ভিয়েতনামের ১ জন নাগরিক রয়েছেন। এই দলটিতে মোট ২০ জন নারী এবং একটি শিশুও অবস্থান করছিল। তাদের কাছ থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত ১৩৪টি মোবাইল ফোন এবং ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং কম্বোডিয়ার একটি চাকরির কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার একটি আটতলা ভবন সম্পূর্ণ ভাড়ায় নিয়ে এই চক্রটি কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। দুবাইপ্রবাসী এক ব্যক্তির মালিকানাধীন এই ভবনটি প্রতি মাসে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার চুক্তিতে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। ভবনটির ভেতরে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জন্য আলাদা কক্ষ এবং রান্নার সুব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল। মহসিন নামের এক ব্যক্তি এই ভবনটি ভাড়া নিয়ে বিদেশিদের সার্বিক দেখভাল করতেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। বর্তমানে এই মহসিনকে খুঁজে বের করতে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, লোভনীয় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এসব বিদেশিকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়ে থাকতে পারে। চক্রের সদস্যরা অনলাইন মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে পণ্য সরবরাহের নামে অগ্রিম অর্থ হাতিয়ে নেওয়া কিংবা হানিট্র্যাপের মতো নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে তারা সুনির্দিষ্টভাবে কোন ধরনের প্রতারণা চালাত, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ব্যাপক তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের পরিবার ও দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ভ্রমণের সঠিক তথ্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com