সাতক্ষীরার কালিন্দী নদী সীমান্ত দিয়ে ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ-ইনের একটি বড় প্রচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। প্রতিকূল আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টির সুযোগ নিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী এই অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালালেও বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তা ব্যর্থ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত বিজিবি সদস্যদের সময়োপযোগী পদক্ষেপে শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
ঘটনাটি ঘটেছিল সম্প্রতি এক সকালে নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের ১৭ বিজিবির আওতাধীন খুরমী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার কালিন্দী নদীর মধ্যবর্তী একটি চরে। বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছোট বাঁশঝাড়িয়া মিনি ফরেস্ট নামক ওই সীমান্ত পয়েন্টে ভারতের ৭৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চর সাহেবখালী ক্যাম্পের সদস্যরা একটি দেশি নৌকা ও একটি স্পিডবোটের সহায়তায় ওই সাধারণ নাগরিকদের বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা চালান। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং ভারী বৃষ্টির কারণে যখন চারপাশ ঝাপসা ছিল, সেই সুযোগটিই কাজে লাগাতে চেয়েছিল বিএসএফ।
তবে খুরমী বিওপির নিয়মিত টহলরত বিজিবি সদস্যদের চোখ এড়াতে পারেনি এই অপচেষ্টা। প্রতিকূল প্রকৃতিকে উপেক্ষা করে বিজিবির সদস্যরা দ্রুত স্পিডবোটে চড়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের গতিরোধ করেন। বিজিবির এই জোরালো প্রতিরোধ ও সতর্ক অবস্থানের মুখে টিকতে না পেরে শেষ পর্যন্ত বেলা ১১টার দিকে ওই ১০-১২ জন ব্যক্তিকে পুনরায় ভারতীয় ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হয় বিএসএফ।
এই সফল অভিযানের বিষয়ে নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের (১৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবু সহল আব্দুল্লাহ গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, দেশের সীমান্ত এলাকার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিজিবি সবসময় সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করে আসছে। কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বা গোষ্ঠীকে যেন বাংলাদেশের সীমানায় পা রাখতে দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ের সদস্যরা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছেন।
বিজিবি অধিনায়ক আরও যোগ করেন যে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, দেশের প্রচলিত আইন এবং দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার সম্পূর্ণ পরিপন্থি এই ধরনের পুশ-ইন বা অবৈধ প্রবেশের যেকোনো অপচেষ্টা ভবিষ্যতে আরও কঠোরভাবে দমন করা হবে। সীমান্তবাসীর নিরাপত্তা ও দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় বিজিবির এই ধরনের নজরদারি ও তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।