শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৯ অপরাহ্ন
Title :
ফোন-ল্যাপটপ বা গ্যাজেটে ডাস্টবিনের ওপর ক্রস চিহ্ন কেন থাকে জানেন? দুদকের জালে বান্দরবান আ.লীগ নেতা লক্ষ্মীপদ দাস ও তার স্ত্রী, অনুসন্ধানে নামল কমিশন প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তার রাত্রিযাপন, দুজনই কারাগারে কীভাবে ৯/১১-এর ঘটনা থেকে এখনো শেখার আছে? কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই কারিগরি ত্রুটিতে আদানির এক ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং নাটোর ডায়রিয়ার প্রকোপ, ঠাঁই নেই হাসপাতালে স্বর্ণের দাম আরো কমলো ইবি ক্যারিয়ার ক্লাবের আয়োজনে সফলভাবে সম্পন্ন হলো ‘ক্যারিয়ার নেক্সাস ২০২৬’ ‘নাইন ইলেভেন’- যে দিনের পর বদলে গেছে মুসলিমদের সাথে আমেরিকার সম্পর্ক

পড়াশোনার ফাঁকে ৩৬০ টাকায় শুরু, এখন মাসে আয় ৩ লাখ

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৬ Time View
23

পড়াশোনার পাশাপাশি মাত্র ৩৬০ টাকা পুঁজি নিয়ে সিল তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী দম্পতি। বর্তমানে ‘বেঙ্গলস সিগনেচার’ নামের সেই প্রতিষ্ঠানটি সফল ব্যবসায় রূপ নিয়েছে এবং সেখান থেকে প্রতি মাসে প্রায় তিন লাখ টাকা আয় হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী এস এম রিজন এবং অ্যাকাউন্টিং বিভাগের শিক্ষার্থী রিসা আফরিন ভিন্নধর্মী কিছু করার তাগিদ থেকে এই উদ্যোগের সূচনা করেছিলেন। অনলাইনে কাস্টম সিলের ভালো ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী কম থাকার বিষয়টি লক্ষ্য করেই তারা এই লাভজনক ব্যবসার পরিকল্পনা করেন। শুরুতে পর্যাপ্ত পুঁজি বা কাজের অভিজ্ঞতা না থাকলেও নিজেদের প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও প্রচেষ্টার জোরে তারা আজ সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

তবে এই পথচলাটি দম্পতির জন্য মোটেও সহজ ছিল না, কারণ শুরুর দিকে পারিবারিক বাধা ও অভিজ্ঞতার অভাব তাদের বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিল। বিশেষ করে রিজনের বাবা পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটতে পারে আশঙ্কায় প্রথমে এই ব্যবসার তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। পরে মায়ের মানসিক সমর্থন এবং পরিবারের অন্য এক সদস্যের আর্থিক সহায়তায় তারা চীন থেকে সিল তৈরির কাঁচামাল সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ও প্রাথমিক কিছু লোকসান সামলে তারা কাজ শেখার প্রতি মনোযোগ দেন। একপর্যায়ে একটি টিনের দোকানে কার্যক্রম শুরু করার পর বর্তমানে তারা পদ্মা আবাসিক এলাকায় একটি সুপরিসর অফিস নিয়ে পুরোদমে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি এই উদ্যোগ স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্যও বড় একটি আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৫ জন শিক্ষার্থী খণ্ডকালীন বা পার্টটাইম কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। রাজশাহীতে শিক্ষার্থীদের জন্য খণ্ডকালীন কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত থাকায় এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পেরে বেশ আনন্দিত ও উপকৃত হচ্ছেন তরুণ কর্মীরা। কর্মীদের বেতন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ মিটিয়েও দম্পতির প্রতি মাসে ভালো অংকের মুনাফা থাকছে। কর্মরত শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের মাধ্যমে নিজেদের যোগাযোগ দক্ষতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীরাও তাদের ক্যারিয়ার গঠনে এই উদ্যোগের ইতিবাচক ভূমিকার কথা সানন্দে স্বীকার করেছেন। অনেক শিক্ষার্থী জানান যে পড়াশোনার পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করার ফলে তারা আর্থিক স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে করপোরেট দুনিয়ায় কাজ করার প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন। উদ্যোক্তা দম্পতিও তাদের এই ছোট ব্যবসাকে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী আরও বৈচিত্র্যময় ও মানসম্মত পণ্য সরবরাহ করার পাশাপাশি আরও বেশি বেকার শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থান তৈরি করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com