মোঃ ওমর ফারুক হৃদয়, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি
ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য লক্ষ্মীপদ দাস এবং তার স্ত্রী সীমা দাসের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদক সূত্র জানায়, অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে কক্সবাজার সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও ব্যাংকে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে লক্ষ্মীপদ দাসের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের নথি তলব করা হয়।
দুদকের কক্সবাজার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হুমায়ুন বিন আহমদ জানান, দম্পতিটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে আইনি স্বার্থে এখনই বিস্তারিত প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
অভিযোগে প্রকাশ, বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য থাকাকালীন লক্ষ্মীপদ দাস স্থানীয় সরকারি দপ্তরগুলোতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, এলজিইডি, জনস্বাস্থ্য ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরের উন্নয়নমূলক কাজের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। এ ছাড়াও, অবৈধ ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় এবং নিজেই সুয়ালকে একটি ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, লক্ষ্মীপদ দাস ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তার স্ত্রী সীমা দাসের নামে বান্দরবান সদর ও আশপাশের এলাকায় একাধিক বিলাসবহুল ভবন, প্লট ও জমির সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে রাজারমাঠের পাশে বহুতল ভবন, পাসপোর্ট অফিসের কাছে ১৬ শতক জমি, কালাঘাটায় ১ একর জমি এবং ঢাকা ও ভারতের কলকাতাতেও তাদের নামে-বেনামে ফ্ল্যাট থাকার তথ্য রয়েছে।
দুদকের রেকর্ড অনুযায়ী, লক্ষ্মীপদ দাস ১৩ বার এবং তার স্ত্রী সীমা দাস ৭ বার বিদেশ ভ্রমণ করেছেন। এই ভ্রমণগুলো হুন্ডি বা অবৈধ উপায়ে অর্থ পাচারের অংশ কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। এদিকে দুদকের তৎপরতা শুরু হওয়ার পর থেকে এই দম্পতির মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে, ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।