দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং ঝরে পড়া রোধে চালু করা স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে নেত্রকোনায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও দুর্গম হাওরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারিত বিস্কুট সরবরাহ করা হচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। এছাড়া কর্মসূচির আওতায় ডিম, কলা ও বনরুটি দেওয়ার কথা থাকলেও তা প্রায়ই অনিয়মিত এবং নিম্নমানের হয়ে থাকে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার বানোয়ারি জুয়েল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রানিচাপুর ও মেন্দিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত ১৫টি প্রতিষ্ঠানে অস্বাস্থ্যকর খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। এসব বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা বনরুটিতে ফাঙ্গাস বা ছত্রাক দেখা যাচ্ছে এবং ডিম ও কলা পচা অবস্থায় শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী খাবার গ্রহণের আগে প্রধান শিক্ষকদের তা যাচাই করার কথা থাকলেও ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশের কারণে অনেক ক্ষেত্রে মানহীন এসব খাদ্যসামগ্রী গ্রহণ করা হচ্ছে। ফলে কোমলমতি শিশুরা পেটের পীড়াসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছে।
খাদ্য বিতরণে এমন অনিয়মের বিষয়ে স্থানীয় শিক্ষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারাও অবগত রয়েছেন বলে জানা গেছে। মেন্দিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিমাংশু সরকার জানান, প্রথম সপ্তাহে বিস্কুট দেওয়ার পর থেকে তা আর সরবরাহ করা হচ্ছে না এবং মানহীন রুটি বা কলা পেলে তা সঙ্গে সঙ্গেই প্রত্যাখ্যান করা হয়। খালিয়াজুরী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোড় আজিমেল কদরও খাদ্যসামগ্রী বিতরণে অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অলিদুজ্জামান উল্লেখ করেছেন যে, দুর্গম হাওরাঞ্চলে খাদ্যসামগ্রীর ধরন কিছুটা পরিবর্তন করলে এ ধরনের সংকট কমানো সম্ভব হতে পারে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, বনরুটি তাজা ও নরম হওয়া এবং প্যাকেটে কোনো পচন বা দুর্গন্ধ না থাকার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ডিমের ক্ষেত্রে ফাটল ও পিচ্ছিল ভাব এবং কলার ক্ষেত্রে দাগ বা পচনশীলতা না থাকার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে এসব নির্দেশনার যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় সরকারি এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে জানিয়েছেন যে, শিশুদের খাবারে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না এবং দ্রুত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।