ইসলাম ধর্মের ইতিহাস ও কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী হজরত সুলাইমান (আ.) ছিলেন একাধারে একজন সম্মানিত নবী ও ক্ষমতাশালী বাদশাহ। তৎকালীন ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইয়াহুদা ও ইসরাইল রাজ্য একত্রিত করে তিনি শাসনকার্য পরিচালনা করতেন। আল্লাহ তাআলার বিশেষ কৃপায় তিনি মানবজাতির পাশাপাশি জিন, পক্ষীকূল ও অন্যান্য প্রাণীকেও বশীভূত করার ক্ষমতা লাভ করেছিলেন। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এমন এক অতুলনীয় সাম্রাজ্য প্রার্থনা করেছিলেন যা তার পরে আর কাউকে দেওয়া হবে না এবং মহান আল্লাহ তার সেই দোয়া কবুলও করেছিলেন।
তবে বিভিন্ন সময়ে তাকে নানা পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়েছে, যার একটির ইঙ্গিত পাওয়া যায় পবিত্র কোরআনের সুরা সোয়াদের ৩৪ নম্বর আয়াতে। কোরআনে পরীক্ষার সুনির্দিষ্ট বিবরণ না থাকায় এ বিষয়ে অতীতে বিভিন্ন ইসরাইলি বর্ণনা ও প্রবাদ প্রচলিত হয়েছে। এর মধ্যে তাফসিরে তাবারিতে আংটি চুরির একটি বিখ্যাত কাহিনি বর্ণিত রয়েছে। ওই বর্ণনা মতে, এক শয়তান সুলাইমানের (আ.) রূপ ধরে তার প্রিয়তমা স্ত্রীর কাছ থেকে আংটি হাতিয়ে নেয় এবং দীর্ঘ চল্লিশ দিন রাজত্ব ও বিচারকার্য পরিচালনা করে। পরবর্তীতে শয়তানটি পালিয়ে সমুদ্রে আংটি ফেলে দিলে এক মাছের পেট থেকে তা উদ্ধার করেন সুলাইমান (আ.) এবং নিজের হারানো রাজত্ব ফিরে পান।
একইভাবে ইহুদিদের ধর্মীয় গ্রন্থ তালমুদেও কিছুটা ভিন্ন আদলে আশমেদাই নামের এক জিনের মাধ্যমে সুলাইমানের (আ.) আংটি ও রাজত্ব হারানোর আরেকটি কাহিনি রয়েছে। এসব বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, আংটি হারানোর পর তাকে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াতে হয়েছিল এবং পরবর্তীতে আংটি উদ্ধারের পর তিনি পুনরায় সিংহাসন ফিরে পান। প্রখ্যাত মুফাসসির ইবনে কাসির (রহ.)সহ প্রবীণ আলেমরা এসব ঘটনার বেশিরভাগই ইসরাইলি বর্ণনাভিত্তিক এবং অনেক ক্ষেত্রে অসংগতিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন।
ইসলামি শরিয়তের মূলনীতি অনুযায়ী, কোরআনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন ইসরাইলি বর্ণনা গ্রহণ করার কোনো সুযোগ নেই। আর যেগুলো সরাসরি সাংঘর্ষিক নয়, সেগুলোর সত্যতা বা মিথ্যাত্ব নিশ্চিত না করে চুপ থাকাই শ্রেয়। গবেষক ও আলেমদের মতে, সুলাইমানের (আ.) আংটি হারানোর এই আলোচিত ঘটনাটি সতর্কতার খাতিরে অতিরিক্ত চর্চা না করাই উত্তম। কারণ ঘটনাটি অসত্য হলে একজন নবীর শানে মিথ্যা আরোপ করা হয়, আর সত্য হলেও আল্লাহ ও রাসুল (সা.) যেহেতু বিস্তারিত জানাননি, তাই এটি নিয়ে অহেতুক চর্চার আবশ্যকতা নেই।