মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধন বিলে শরিয়াহর প্রতিফলন চায় হেফাজত

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪ Time View
5

জাতীয় সংসদে সম্প্রতি পাস হওয়া ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, এই নতুন আইনে দেশের প্রচলিত মুসলিম পারিবারিক ও সামাজিক বিধিব্যবস্থায় কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটার শঙ্কা রয়েছে। তাই সম্পত্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত বিধানগুলোতে শরিয়াহর সঠিক প্রতিফলন নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা। সম্প্রতি গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী এবং মহাসচিব শায়েখ সাজিদুর রহমান এই মতামত তুলে ধরেন।

এর আগে গত সপ্তাহে জাতীয় সংসদে ১৮৮২ সালের দ্য ট্রান্সফার অব প্রোপার্টি আইনের সংশোধনী বিলটি পাস হয়। নতুন এই বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি তার সম্পত্তি সন্তান বা অন্য কাউকে দান করার পরও তিনি জীবিত থাকা পর্যন্ত সেই সম্পত্তি নিজে ভোগদখল করতে পারবেন। প্রবীণ পিতা-মাতার নিরাপত্তা, সুচিকিৎসা এবং সম্মানজনক জীবিকা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই মূলত এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইসলাম ধর্মেও পিতা-মাতার হক আদায় এবং তাদের প্রতি দায়িত্ব পালনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে স্বীকার করেন হেফাজত নেতারা।

তবে প্রবীণ নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়টি প্রশংসনীয় হলেও, আইনের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে কিছু শরিয়তগত প্রশ্ন তুলেছেন হেফাজতের শীর্ষ ব্যক্তিরা। তাদের মতে, মুসলমানদের সম্পত্তি বণ্টন, দান বা হেবা এবং সামগ্রিক মালিকানা হস্তান্তরের পুরো বিষয়টি পবিত্র ইসলাম ধর্মের ফারায়েজ আইনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সম্পত্তি হস্তান্তরের নতুন কোনো পদ্ধতি বা ধারা যেন মূল ইসলামি মিরাস বা উত্তরাধিকার এবং হেবার বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

আইনি কোনো জটিলতা বা শরিয়তের বিধানের সঙ্গে অসঙ্গতি এড়ানোর জন্য বিলটি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় ইসলামি বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দেশের বরেণ্য মুফতি, ফকিহ এবং শরিয়াহ আইন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত বোর্ডের পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনার আহ্বান জানান হেফাজত নেতারা। তাদের মতে, বয়স্ক পিতা-মাতার অধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি সুন্নাহসম্মত হেবা ও মিরাসের বিধানগুলোও যেন পুরোপুরি নিরাপদ ও অক্ষুণ্ণ থাকে, এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ আইনি কাঠামো তৈরি করা দরকার।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com