বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগের প্রসার ও সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে ‘ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন অ্যান্ড প্রোটেকশন এগ্রিমেন্ট’ শীর্ষক একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়। সরকারের পক্ষ থেকে শিল্প মন্ত্রণালয় এই চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করেছিল।
বিশ্ব অর্থনীতির মানচিত্রে হংকং অন্যতম একটি উন্নত ও উন্মুক্ত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে বাংলাদেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগকারী দেশ বা অঞ্চলের তালিকায় ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে হংকং। দেশের পোশাকশিল্প এবং টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে হংকংয়ের ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করে আসছেন। নতুন এই চুক্তিটি কার্যকর হলে দুই পক্ষের মধ্যকার বিদ্যমান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় হবে এবং নতুন বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে এটি অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে উভয় পক্ষের বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এর ফলে বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের মনে আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং দেশে আরও বেশি বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়াতে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হবে। একই সঙ্গে এই উদ্যোগ দেশের শিল্পায়ন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আধুনিক প্রযুক্তির স্থানান্তর এবং সার্বিক উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত এই চুক্তিটির প্রাথমিক মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে দশ বছর। তবে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর তিন বছর অতিবাহিত হলে উভয় পক্ষের সম্মতিতে এটি সংশোধন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। খসড়া চুক্তিতে এই সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, এই চুক্তি বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।