প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের ফলে দেশে প্রতি দুই বছরে ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইথের চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের চাহিদা ১৩ টেরাবিটের বেশি হলেও, ডিজিটাল অর্থনীতির এই যুগে সাবমেরিন ক্যাবল নির্মাণে বাংলাদেশ বেশ পিছিয়ে রয়েছে। যেখানে ভারতের বিশটি এবং পাকিস্তানের সাতটি সাবমেরিন ক্যাবল রয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের মূল ভরসা মাত্র দুটি সরকারি ক্যাবল। আর এই সীমিত অবকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে ভবিষ্যতের ইন্টারনেট খাত বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
দেশের বর্তমান আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগের প্রধান মাধ্যম সি-মি-উই-৪ ও সি-মি-উই-৫ ক্যাবল দীর্ঘদিনের ব্যবহার ও নানা ত্রুটির কারণে এখন জর্জরিত। এর মধ্যে প্রথম ক্যাবলটি তার নকশাগত আয়ুষ্কাল পার করে ফেলেছে এবং ঘন ঘন কারিগরি ত্রুটির কারণে এর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও অনেক বেড়ে গেছে। বিকল্প বা অতিরিক্ত সাবমেরিন ক্যাবল না থাকায় যেকোনো একটি ক্যাবলে সমস্যা দেখা দিলে পুরো দেশের ইন্টারনেট সেবায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা থাকে। এই সংকট মোকাবিলায় ভারতের মতো প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে চড়া মূল্যে ব্যান্ডউইথ আমদানি করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত কয়েক বছরে ব্যান্ডউইথ আমদানির পেছনে শত শত মিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে গেছে, যা দিয়ে দেশে একাধিক সাবমেরিন ক্যাবল অবকাঠামো তৈরি করা সম্ভব ছিল। এই ঘাটতি পূরণে বেসরকারি খাতের তিনটি প্রতিষ্ঠান কনসোর্টিয়াম গঠন করে নিজস্ব উদ্যোগে সাবমেরিন ক্যাবল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু সরকারের শীর্ষ পর্যায় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমতি এবং ফরওয়ার্ডিংয়ের অভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি বর্তমানে থমকে আছে। বেসরকারি উদ্যোক্তারা বলছেন, সঠিক সময়ে অনুমোদন মিললে এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব রক্ষা পেত এবং ইন্টারনেটের দাম অর্ধেকে নেমে আসত।
তবে অন্যদিকে সরকারি মহলে এই বেসরকারি কনসোর্টিয়ামের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং সরকারি বিনিয়োগ সুরক্ষার বিষয়টিও সামনে আনা হয়েছে। তা সত্ত্বেও ২০৩০ সাল নাগাদ দেশের ব্যান্ডউইথের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা মেটাতে কেবল সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাই অদূর ভবিষ্যতে ইন্টারনেটের নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ নিশ্চিত করতে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে দ্রুত নতুন সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ স্থাপনের বিকল্প নেই। বিশেষ করে আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড সেবা ও ফ্রিল্যান্সিং খাতের অগ্রগতির জন্য নির্ভরযোগ্য ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।