সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের তথ্যদাতাকে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অথচ বাস্তব প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের পক্ষে অস্ত্রধারীদের চিহ্নিত করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অতীতে বিভিন্ন অপরাধ বা ব্যাংকে ডাকাতির ঘটনায় তথ্যদাতাদের পুলিশের হাতে হয়রানির শিকার হওয়ার নজির রয়েছে। তাই পুরস্কারের প্রলোভন থাকলেও পুলিশের ওপর আস্থার সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ তথ্য দিতে আগ্রহী হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানা থেকে হাজার হাজার অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিপুল সংখ্যক অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের সক্ষমতা এবং মনোবলের অভাবই এই ব্যর্থতার প্রধান কারণ বলে মনে করছেন অনেকে। কেবল পুরস্কার ঘোষণা করে বা জনগণের ওপর নির্ভর করে এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও সচেতন মহলে সংশয় রয়েছে।
পুলিশ বাহিনীর ওপর মানুষের দীর্ঘদিনের অনাগ্রহ ও ভয়ের সংস্কৃতি এখনো কাটেনি। পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের ঐতিহ্য এবং তাদের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি যদি নির্মূল না হয়, তবে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা অসম্ভব। সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো কেবল কাগজে-কলমে না রেখে দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে পুলিশকে জনবান্ধব করে গড়ে তোলাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। নতুবা কেবল পুরস্কারের ঘোষণায় অস্ত্র উদ্ধার এবং অপরাধ দমন সম্ভব নয়।