বাংলাদেশে সংবিধানের শাসন ও আইনের প্রয়োগ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলের উর্ধ্বে গিয়ে রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোর প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব সংক্রান্ত ধোঁয়াশা এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সরকার দাবি করছে তিনি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন এবং নিয়োগটি সংবিধানসম্মত, তবে প্রশ্ন উঠছে এই ত্যাগের আইনগত প্রমাণ এবং যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কেবল মুখে দাবি করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, বরং স্বচ্ছতার খাতিরে নথিপত্রের প্রমাণ জনগণের সামনে উন্মুক্ত করা জরুরি।
সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হতে হলে নাগরিকত্বসহ বেশ কিছু শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল এমন এক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা যেখানে আইনের শাসন থাকবে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ হবে। যদি ক্ষমতাবানদের ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ শিথিল হয়, তবে সাধারণ মানুষের কাছে রাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়। সংবিধান কারো সুবিধামতো ব্যাখ্যা করার বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ দলিল, যা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
ব্যক্তিকে আক্রমণ করা নয়, বরং রাষ্ট্রের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। কোনো রাজনৈতিক পদধারীই আইনের ঊর্ধ্বে নন, তা তিনি মন্ত্রী হোন কিংবা সাধারণ নাগরিক। স্বাধীন যাচাই-বাছাই এবং সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে যদি প্রমাণিত হয় যে নিয়োগটি আইনসম্মত, তবেই বিতর্ক থামতে পারে। জুলাইয়ের আত্মত্যাগের প্রতি সত্যিকারের সম্মান জানাতে হলে রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে সংবিধানের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই হোক আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য।