বাংলা চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহের প্রয়াণের তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তাকে নিয়ে দর্শকদের উন্মাদনা ও আগ্রহে একটুও ভাটা পড়েনি। নব্বইয়ের দশকের এই জনপ্রিয় তারকা জীবদ্দশায় যেমন বড় পর্দা কাঁপিয়েছিলেন, তেমনি মৃত্যুর এতদিন পরেও তিনি সমানভাবে জনপ্রিয়। চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের মতে, দেশের সিনেমার ইতিহাসে কোনো অভিনেতাকে ঘিরে এমন দীর্ঘস্থায়ী ও ক্রমবর্ধমান ক্রেজ বা উন্মাদনা সত্যিই এক বিরল ঘটনা।
সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, যে প্রজন্ম সালমান শাহকে জীবদ্দশায় দেখেনি বা তার মৃত্যুর পরে জন্ম নিয়েছে, তাদের মধ্যেও এই নায়ককে নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল ও উন্মাদনা লক্ষ্য করা যায়। বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ইন্টারনেটের বদৌলতে তার পুরোনো সিনেমাগুলো আগ্রহভরে দেখছেন। তার ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, অনবদ্য অভিনয়শৈলী এবং চিরসবুজ ব্যক্তিত্ব আজও নতুন প্রজন্মের দর্শকদের আকৃষ্ট করছে, যা বাংলা চলচ্চিত্র জগতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
চলচ্চিত্র সমালোচক ও গবেষকরা মনে করেন, সালমান শাহের জনপ্রিয়তা কেবল তারকাব্যতিরেকে একটি সাংস্কৃতিক ঘটনার রূপ নিয়েছে। অল্প কিছুদিন ক্যারিয়ারে তিনি যেসব চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, সেগুলোর গল্প এবং তার সাবলীল অভিনয় আজও দর্শকের হৃদয়ে গভীর দাগ কেটে আছে। তাছাড়া তার আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুর বিষয়টিও জনমনে তাকে নিয়ে একধরনের স্থায়ী আবেগ এবং রহস্যের জাল বুনে রেখেছে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও ঘনীভূত হয়েছে।
সবমিলিয়ে, মৃত্যুর দীর্ঘ সময় পেরিয়েও সালমান শাহ আমাদের সংস্কৃতির মূলধারায় একটি জীবন্ত কিংবদন্তি হিসেবে বেঁচে আছেন। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দর্শকের রুচি বদলালেও এই যুবরাজতুল্য নায়কের প্রতি সাধারণ মানুষের ভালোবাসার জায়গাটি আজও অপরিবর্তিত রয়েছে। বাংলা চলচ্চিত্রের আকাশে তিনি এমন এক উজ্জ্বল ধ্রুবতারা, যার আলো আগামী দিনেও নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবে বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।