মোঃ আশরাফুল চরফ্যাশন, ভোলা
ভোলার বোরহানউদ্দিনে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে বোরহানউদ্দিন ও লালমোহন থানা পুলিশের সহযোগিতায় লালমোহন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। বিকেলে ভোলা জেলা পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চর উমেদের মো. আমির হোসেন (৪৫), দক্ষিণ মেহেরগঞ্জের মো. মঞ্জু (৩৫) এবং চরফ্যাশন উপজেলার আব্দুল্লাহপুরের মো. হাসান (২১)।
পুলিশ জানায়, গত ১০ আগস্ট মধ্যরাতে বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের বাটামারা এলাকায় ব্যবসায়ী সৈয়দ আরাফাত রহমান চৌধুরী ও তার ভাই সৈয়দ আশিকুর রহমান চৌধুরীর বাড়িতে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ডাকাতদল। পরে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে হাত-মুখ বেঁধে আলমারি ও সুকেস ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোনসহ প্রায় ১১ লাখ ২৬ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সৈয়দ আরাফাত রহমান চৌধুরী বাদী হয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর ডিবি পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাতদের শনাক্ত করে। পরবর্তীতে মঙ্গলবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে আসামিদের কাছ থেকে ৬টি স্বর্ণের বালা, এক জোড়া বড় ও এক জোড়া ছোট কানের ঝুমকা, দুটি চেইন, দুটি আংটি এবং নগদ ৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে এর আগেও ডাকাতি, অস্ত্র ও চুরির একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে অভিযুক্ত মঞ্জুর বিরুদ্ধে ৬টি এবং আমির হোসেনের বিরুদ্ধে ২টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।