গুম প্রতিরোধ এবং মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাস না করায় বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, আগের অধ্যাদেশগুলো বাতিল করে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ায় বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দেশ পিছিয়ে পড়ছে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আখতার হোসেনের মতে, নতুন খসড়া আইনে মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে, যা কমিশনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এছাড়া, অভিযুক্ত বাহিনীর ওপরই তদন্তের দায়িত্ব ন্যস্ত করার বিষয়টি সুষ্ঠু বিচারের পথে বড় বাধা সৃষ্টি করবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, অভিযোগকারীদের জন্য শাস্তির বিধান রাখা হলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অভিযোগ জানাতে ভয় পাবে, যা গুমের ঘটনাগুলোকে আড়াল করার সুযোগ করে দেবে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত এই খসড়া চূড়ান্ত নয়। তিনি অবিলম্বে আগের অধ্যাদেশগুলো সংসদে পাসের দাবি জানান এবং প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে তা সংশোধনের পরামর্শ দেন। আমলা বা বাহিনীর মতামতের চেয়ে সাধারণ নাগরিক ও সুশীল সমাজের মতামতের ভিত্তিতে আইন প্রণয়নের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, অতীতে গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে দায়মুক্তির সংস্কৃতি ছিল, নতুন আইনের মাধ্যমে তা যেন কোনোভাবেই পুনরাবৃত্তি না ঘটে।