নিজস্ব প্রতিবেদক, মোঃ মাইন উদ্দিন :
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ পৌর যুবলীগ নেতা ও ভৈরব পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোঃ আল-আমিন সৈকতকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভৈরব বাজারের টিনপট্টি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে আল-আমিন সৈকতের ওপর হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।
হামলার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আল-আমিন সৈকতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁর জন্য জরুরি ভিত্তিতে AB+ রক্তের প্রয়োজন জানিয়ে রক্তদাতাদের সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়। এ সময় তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়লেও পরে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
আল-আমিন সৈকত ভৈরবপুর উত্তরপাড়ার আড়াই বেপারি বাড়ির ব্যবসায়ী জসিম মিয়ার ছেলে। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতা এবং ভৈরব পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক।
তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ভৈরবজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
তবে কি কারণে এবং কারা আল-আমিন সৈকতের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
একজন সাবেক জনপ্রতিনিধিকে ব্যস্ততম এলাকায় এভাবে হামলা চালিয়ে হত্যার ঘটনায় ভৈরবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।
আল-আমিন সৈকতের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মাহাবুর রহমান সাংবাদিকদের এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।