ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল-মামুনের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও জোরপূর্বক মুচলেকা নেওয়ার অভিযোগের ঘটনাটি এখন আলোচনার কেন্দ্রে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইব্রাহিমের অভিযোগ, ফেসবুকে প্রভোস্টের সমালোচনা করায় তাকে ডেকে নিয়ে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। প্রক্টরের কার্যালয়ে প্রদর্শিত সিসিটিভি ফুটেজেও প্রভোস্টের কক্ষে ইব্রাহিমকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভুক্তভোগীর বন্ধু আবির হাসানের ভাষ্যমতে, প্রভোস্টের নির্দেশেই ইব্রাহিমের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয় এবং তার পরিবারের সাথেও যোগাযোগ করা হয়। শুধু তাই নয়, চাপে পড়ে তাকে এমন একটি লিখিত বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয় যেখানে প্রভোস্টের প্রশংসা করতে বলা হয়েছিল। এ সময় হল প্রশাসন থেকে বহিষ্কার ও সাইবার আইনে মামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ইব্রাহিম বর্তমানে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলে জানিয়েছেন তার বন্ধুরা।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় হল প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। হলের ভিপি আবু নাঈম সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রভোস্টকে দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতির দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তবে অভিযুক্ত প্রভোস্টের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বচ্ছ তদন্ত এবং সিসিটিভি ফুটেজ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।