জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া নিয়ে সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এক ধরনের মতপার্থক্য ও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ও রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই সনদ প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে সনদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব, বিশেষ করে সংসদীয় উচ্চকক্ষ গঠন এবং এর ক্ষমতার পরিধি নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে শুরু থেকেই ভিন্নমত ছিল। বিএনপি তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে এই বিষয়গুলোতে নিজস্ব অবস্থান তুলে ধরেছে, যা এখন সনদ বাস্তবায়নের পথে একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট অনুষ্ঠিত হলেও, সেখানে বিএনপির ভিন্নমতের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ফলে সনদ বাস্তবায়নের জন্য গঠিত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয় এবং বিএনপির সংসদ সদস্যরা এতে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানান। বর্তমানে বিএনপি এই সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এর আইনি ভিত্তি নিয়ে আপত্তি তুলছে। দলটির দাবি, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে তাদের ইশতেহার ও জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেটকে প্রাধান্য দিতে হবে, যা নিয়ে সরকারি দলের সঙ্গে তাদের মতভেদের সৃষ্টি হয়েছে।
আইনাঙ্গনের বিশ্লেষক ও আইনজীবীদের মধ্যেও এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, সনদ বাস্তবায়নের বিলম্ব রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে হতাশাজনক। আবার অনেকের মতে, তাড়াহুড়ো না করে আইনগত বৈধতা নিশ্চিত করে ধীরে ধীরে সংস্কার সম্পন্ন করাই শ্রেয়। যদিও সরকার জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে, তবুও এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং বিএনপির ভিন্নমত নিরসনের বিষয়টি এখন রাজনীতির অন্যতম প্রধান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।