ইমাম হাছাইন পিন্টু, নাটোর
নাটোরের লালপুর উপজেলায় মসজিদ কমিটি গঠন ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার আড়বাব ইউনিয়নের কারিগরপাড়া গ্রামে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন—মিজানুর রহমান কালু (৪২), তাঁর দুই ছেলে মুন্না (১৮) ও শুভ (২৯), মাহমুদুল হাসান (১৪), চম্পা (৩৫), আলমগীর হোসেন (৩৮), বনি আমিন (২১), মাহাতাব হোসেন (৩৮) এবং মাসুদ রানা (৪৫)।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর কারিগরপাড়া জামে মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে স্থানীয় আফসার আলীর সঙ্গে কমিটির সভাপতি নাসির উদ্দিন ও রফিকুল ইসলামের বাকবিতণ্ডা হয়। এর জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে শনিবার সন্ধ্যার পর আড়বাব ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাল উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান কালুর নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক লোক আফসার আলীর পক্ষে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে উভয়পক্ষ মুখোমুখি হলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাঁধে।
সংঘর্ষ চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে ৯ জন আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে মাসুদ রানাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, মসজিদ কমিটির বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করে। আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সংঘাত অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ। তারা যেকোনো বিরোধ স্থানীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।