ইমাম হাছাইন পিন্টু নাটোর
নাটোরের গুরুদাসপুরে পুকুর খননের নামে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে আশপাশের শতাধিক বিঘা ফসলি জমি নদীভাঙন ও ধ্বংসের মুখে পড়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় বারবার উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার মিলছে না। প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই দীর্ঘ সময় ধরে এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
সরেজমিনে জানা যায়, কৃষক কাদেরের ফসলি জমির কেন্দ্রস্থলে একটি বড় ড্রেজার বসিয়ে মাটি খুঁড়ে বালু তোলা হচ্ছে। চাপিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাফর ইকবাল নয়ন এবং সুমন আলীর নেতৃত্বে এই অবৈধ সিন্ডিকেট পরিচালিত হচ্ছে। উত্তোলিত বালু পার্শ্ববর্তী জমিতে স্তূপ করে রাখা হয়েছে, যার কারণে আশপাশের জমিতে চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় কৃষক জানান, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। এভাবে চলতে থাকলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে তাঁদের জমিগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুল ইসলাম বলেন, পূর্বে একবার অভিযান চালিয়ে এই বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পুনরায় যদি বালু তোলার কাজ শুরু হয়ে থাকে, তবে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান জানান, সরকারি অনুমতি ছাড়া ফসলি জমি বা পুকুর থেকে ড্রেজারে বালু তোলা সম্পূর্ণ বেআইনি। এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।