সুলতান আহমেদ ময়না, শেরপুর জেলা
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার পাইকুড়া আজিজুর রহমান পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। সংবাদটিকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সর্বস্তরের মানুষ। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন সড়কে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রিয় শিক্ষকের সম্মান রক্ষায় এবং মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াকারীদের বিচারের দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ক্লাস বর্জন করে অংশ নেয় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তোলে তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মো. মতিউর রহমান অত্যন্ত সততা ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। একটি কুচক্রী মহল আদর্শবান এই শিক্ষকের মানহানি ও মানসিক হেনস্তা করার অসৎ উদ্দেশ্যে মনগড়া সংবাদ প্রচার করেছে। বক্তারা জানান, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক হিসাব বা অনিয়মের যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার সঙ্গে বর্তমান প্রধান শিক্ষকের কোনো সম্পৃক্ততা নেই; বরং এসব অনিয়ম সাবেক প্রধান শিক্ষকের আমলের। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সভাপতির পদ হাতিয়ে নিতেই এই গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেন তারা। বিশেষ করে ‘তুহিন’ নামের এক ব্যক্তি অবৈধভাবে সভাপতি হওয়ার লোভে এই মিথ্যা তথ্য ছড়াতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে সমাবেশে জানানো হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তালাক ও নিকাহ রেজিস্টার মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, “প্রধান শিক্ষক মো. মতিউর রহমান অত্যন্ত সৎ মনের মানুষ। তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানাতেই আজ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমেছে।” স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফর রহমান ও মো. আব্দুল কুদ্দুস এই সংবাদকে শতভাগ ভিত্তিহীন ও চক্রান্তমূলক উল্লেখ করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমত আলী বলেন, “তুহিন নামের এক ব্যক্তি অনৈতিক উপায়ে স্কুলের সভাপতি হওয়ার জন্য এই মিথ্যা খবর ছড়িয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা দাবি করছি।”
এছাড়াও প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ইউপি সদস্য মোহাম্মদ জহুরুল হক ও মোহাম্মদ শহিদুল আলম, সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হেদায়েতুল ইসলাম এবং সমাজসেবক মোহাম্মদ জাকির কাজী।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে মিথ্যা সংবাদের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় অভিযুক্ত ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।