জাতীয় সংসদে বিরোধীদল থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে একটি সংসদীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংসদের ভেতরেই সরকারি দল এবং প্রধান বিরোধী দলগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা এই বিষয়ে মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসেন। বিশেষ করে কার সুপারিশে এবং কোন প্রক্রিয়ায় তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে স্থান দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধীপক্ষের অনেক সংসদ সদস্য। এই আকস্মিক পদায়ন নিয়ে সংসদীয় অঙ্গনে নানা গুঞ্জন ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে যখন বিরোধীদলীয় ফোরামে বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয় এবং বহিষ্কৃত একজন সদস্যকে কমিটির সদস্য করায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। বিরোধী দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা দাবি করেন, দলের সিদ্ধান্ত অমান্যকারী ও বহিষ্কৃত কোনো ব্যক্তি বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন না। তাই তাকে এই কমিটি থেকে অবিলম্বে অপসারণ করার দাবি জানান তারা। এ সময় সরকারি দলের পক্ষ থেকেও এই নিয়োগের পক্ষে-বিপক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরা হয়, যা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রচলিত নিয়ম ও প্রটোকল যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না, তা নিয়ে উভয় পক্ষের সংসদ সদস্যরা একে অপরের দিকে আঙুল তোলেন। বিরোধী নেতারা অভিযোগ করেন যে, তাদের মতামত বা দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সরকারি দলের তরফ থেকে দাবি করা হয় যে, স্পিকার ও সংসদীয় বিধিবিধানের আওতাতেই সবকিছু সম্পন্ন হয়েছে। ফলে দুই পক্ষের তীব্র বাকবিতণ্ডায় সংসদের কার্যপরিবেশ কিছুক্ষণের জন্য বেশ সরগরম হয়ে ওঠে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনাটি নতুন আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে এবং দলীয় শৃঙ্খলা ও সংসদীয় কূটনীতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। বিরোধী দল থেকে বহিষ্কারের পরও এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে গাজী নজরুল ইসলামের অন্তর্ভুক্তি ভবিষ্যতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও নানা মত প্রকাশ করছেন। শেষ পর্যন্ত এই বিরোধ কীভাবে মীমাংসা হয় এবং ওই সংসদ সদস্যের কমিটিতে থাকা বা না থাকার বিষয়ে চূড়ান্ত কী সিদ্ধান্ত আসে, সেদিকেই এখন সবার নজর রয়েছে।